যশোরে প্রবাসীদের খুঁজতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে টিম : বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ 

বিল্লাল হোসেন : হোম কোয়ারেন্টাইনে না যেয়ে ফ্রি স্টাইলে ঘুরে বেড়ানো প্রবাসীদের খুঁজতে যশোরে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। শনিবার যশোর সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে  করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ যশোর জেলা কমিটির জরুরি সভা থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ এ তথ্য জানান। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির তথ্য অনুযায়ী ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে যশোরে ফিরেছেন ২৩ হাজার ৩শ’ ৯৪ জন। এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৯৪০৮, চৌগাছা উপজেলায় ৮০৬, অভয়নগর উপজেলায় ৩৭০৯, ঝিকরগাছা উপজেলায় ২২৩১, কেশবপুর উপজেলায় ১১০২, মণিরামপুর উপজেলায় ২২৫৫, শার্শা উপজেলায় ২৪৭০ ও বাঘারপাড়া উপজেলায় ১৩৫৯ জন। শনিবার পর্যন্ত ৩৩২ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। বাকি প্রবাসীদের সন্ধান নিশ্চিত করতে গতকাল যশোরের ৮ উপজেলার সকল ইউপি সদস্যকে প্রধান করে একটি করে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন কোনভাবেই বিদেশ ফেরতদের সংস্পর্শ নয়। বিদেশিদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে না পারলে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।  শোনা যাচ্ছে স্কুল কলেজ বন্ধ ঘোষণা করার পর শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে যাচ্ছে। এছাড়া জনগনও সেখানে ভিড় করছে। জনসমাগম এড়াতে ইতোমধ্যে যশোরের সকল বিনোদনকেন্দ্র ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় বলেন, চিকিৎসকরা মানবিক পেশার সাথে জড়িত। জ্বর ঠাণ্ডা কাশিতে আক্রান্ত কেউ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসলে আমরা তাদের তাড়িয়ে দিতে পারি না। তবে ঝুঁকি এড়াড়ে জ্বর ঠাণ্ডা কাশিতে আক্রান্তদের জন্য মূল ভবনের বাইরে জরুরি বিভাগে আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে। সেখানে টিকিট সংগ্রহ ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘নভেল করোনাভাইরাস’ মোকাবেলার জন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবীরা প্রস্তুত আছেন। কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই) পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ নেই। আড়াইশ শয্যার এই হাসপাতালে মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ১শ’ টি। হাসপাতালে ভিজিটিং আওয়ারে লোক সমাগম কমানোর বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সিভিল সার্জন সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, আপাতত প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো, যারা করোনা ভাইরাস আক্রান্ত বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন তাদের সংস্পশ এড়িয়ে চলতে হবে।  হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা, সবসময় সাবান দিয়ে হাতে ধোয়া; অন্তত ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে। সচেতন থাকাটাই মূল বিষয়।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের যশোরের উপপরিচালক ডা. মনোয়ার হোসেন বলেন, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনা ভাইরাস সচেতনতায় ফিল্ডে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ করছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল, যশোর পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দীন শিকদার, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. প্রতিভা ঘরাই, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তৌহিদুল ইসলাম, বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম, ঝিকরগাছা  উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক কামরুল আরিফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাম্মি ইসলাম, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ যশোর জেলা শাখার সভাপতি ডা. আতিকুর রহমান খান প্রমুখ।