কমিউনিটি সংক্রমণের প্রমাণ এখনো মেলেনি, আক্রান্ত বেড়ে ২৭

বিবিসি : বাংলাদেশে আরো ৩ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এনিয়ে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৭ জন।

তবে এরই মধ্যে মোট পাঁচজন সুস্থ হয়ে যাওয়ায় এবং আক্রান্তদের দু’জন মারা যাওয়ায় এই মুহুর্তে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ জন।

সর্বশেষ তিনজন আক্রান্তের মধ্যে একজন মহিলা, দু’জন পুরুষ। তাদের মধ্যে দুই জন সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরেছেন।

তাদের একজনের বয়স চল্লিশের ঘরে, একজন ত্রিশের ঘরে এবং একজনের বিশের ঘরে।

নতুন আক্রান্ত দু’জনের মধ্যে একজনের কো-মরবিডিটি বা একাধিক প্রাণঘাতী ব্যাধির উপস্থিতি রয়েছে বলে জানান আইডিসিআরের পরিচালক।

আইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা জানান নিয়ম অনুযায়ী পরপর দু’টি পরীক্ষায় নেগেটিভ হওয়ায় দু’জনকে আজ ছেড়ে দেয়া হবে।

“মোট আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন আগেই সুস্থ হয়েছেন। আরো দু’জন আজ চলে যাচ্ছেন। অর্থাৎ এখন দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ২০ জন।

আইডিসিআরের পরিচালক জানান ভাইারাস এখনো কমিউনিটির মধ্যে ছড়িযেছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।

“কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে কিনা তা যাচাই করতে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া নিউমোনিয়া রোগীদেরও আমরা করোনাভাইরাস পরীক্ষা করি। সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে আমরা বলতে পারবে না কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়েছে কিনা।”

রবিবার মধ্যরাতে সিলেটে মারা যাওয়া নারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা, তার পরীক্ষা চলছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

‘ঐ ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে যেহেতু সম্দেহ করা হচ্ছিল যে তিনি করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তাই প্রটোকল অনুসরণ করেই তার সৎকার করা হয়েছে।’

এছাড়া মিরপুরে (শনিবার) মারা যাওয়া ব্যক্তির দেহে কীভাবে করোনাভাইরাস এসেছে সেবিষয়েও খোঁজ নেয়া হচ্ছে বলে জানান মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

“ঐ ব্যক্তি রোগের উপসর্গ দেখা দেয়ার ১৪ দিন আগে থেকে কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন আমরা সেসব তথ্য নিচ্ছি। তিনি যেসব জায়গায় গিয়েছিলেন সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ ও যাচাই করছি।”

তিনি জানান এভাবে তথ্য সংগ্রহ করে তারা সংক্রমণের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যেন পরবর্তী সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হয়।

আইডিসিআরের পরিচালক বলেন শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হলে তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানবে না।

৮ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। সেসময় তিনজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানায় আইইডিসিআর।

এরপর ১৪ই মার্চ শনিবার রাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আরো দু’জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানান।

পরবর্তীতে সোমবার তিনজন এবং মঙ্গলবার আরো দু’জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার তথ্য জানানো হয়।

আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয় আক্রান্তদের সবাই বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

এরপর ১৮ই মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর খবর জানানো হয়।

শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

মারা যাওয়া দু’জনের বয়সই ৭০ এর বেশি ছিল।

শনিবার পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ২৪ জন।