যশোরে বিদেশ ফেরতদের বাড়িতে লাল পতাকা

মিরাজুল কবীর টিটো : করোনাভাইরাস বিস্তাররোধে যশোরে গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন ৫৫৫ ব্যক্তি। ফলে জেলায় মোট কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ালো এক হাজার ১০৮-এ। এদিকে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের বাড়ি চিহ্নিত করতে শুরু হয়েছে লাল পতাকা টানানোর কার্যক্রম।

যশোরের সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর সদরে ৪১৪, বাঘারপাড়ায় চার, চৌগাছায় এক, ঝিকরগাছায় ৪৮, কেশবপুরে আট, মণিরামপুরে সাত এবং শার্শায় ৭৩ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন। এই সময়কালে অভয়নগরের একজনের হোম কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তিনি সুস্থ আছেন। ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. প্রতিভা ঘরাই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ১০ মার্চ থেকে সোমবার পর্যন্ত জেলায় মোট এক হাজার ১০৮ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অভয়নগরে ৪১ জন, বাঘারপাড়ায় ১২, চৌগাছায় ২৭, যশোর সদরে ৬৭৬, ঝিকরগাছায় ৮২, কেশবপুরে ২২, মণিরামপুরে ৪১ এবং শার্শায় ২০৭ জন রয়েছেন।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, এই সময়কালে ১৬ জনের কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এদের মধ্যে নয়জন চৌগাছার, সাতজন অভয়নগরের।

জেলায় এখনো পর্যন্ত কোনো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হননি। কেউ প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনেও নেই। সিভিল সার্জন বলেন, ‘যাদের তত্ত্বাবধানে তাদের প্রত্যেকের কাছে আমাদের ফোন নাম্বার আছে। তাদের ফোন নাম্বারও আমাদের কাছে আছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন সকাল-বিকেল তাদের খোঁজ নিচ্ছেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে কী কী নিয়ম পালন করতে হবে, তাদের সেগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে করোনা সতর্কতায় যশোর সদরের ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় বিদেশ ফেরত ৩ হাজার ১০৭ টি বাড়ি চিহ্নিত করেছে প্রশাসনের মনিটরিং টিম। চিহ্নিত করা বাড়িতে লাল পতাকা টানানো হয়েছে। এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে উপশহর ইউনিয়ন থেকে ।

সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস থেকে জানা গেছে, চিহ্নিত বাড়ির মধ্যে উপশহরে ৬০৯, নওয়াপাড়া ইউনিয়নে ৫৯, আরবপুর ইউনিয়নে ৫৫, চুড়ামনকাটি ১২০, দেয়াড়া-৪৭, ফতেপুর-৮৪, নরেন্দ্রপুর-৪৫, বসুন্দিয়া-৮০, কাশিমপুর ৬৩, কচুয়া- ৬০, রামনগর-৫৩, ইছালী -৩৬, লেবুতলা -৩১ ও চাঁচড়া ইউনিয়নে রয়েছে ১৬০ টি বাড়ি। উপশহরে বিদেশ ফেরতদের বাড়িতে লাল পতাকা টানানো শুরু হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপশহরের বি-ব্লকে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাম পুলিশের সহায়তায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিজেই পতাকা লাগানোর  কাজ করছেন।

উপশহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু জানান, শনিবার ইউএনও ও পাসপোর্ট অফিস থেকে আমাদের কাছে একটা লিস্ট দিয়েছেন। ১৫ থেকে ২০ দিন আগে যারা বিদেশে থেকে বাড়ি এসেছে তাদের তথ্য আছে। তথ্য অনুযায়ী আমরা লাল পতাকা টানানো শুরু করেছি। সোমবার ইউনিয়নের ১১ বাড়িতে লাল পতাকা দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিগুলোয় দেয়া হবে। নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান নাসরিন সুলতানা খুশি জানান মিটিং করে  ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান,বিদেশ ফেরত কোন ব্যক্তি যাতে ফ্রি স্টাইলে চলাচল করতে না পারে সে জন্য বিদেশ ফেরত ব্যক্তির তালিকা করে তার বাড়ির সামনে লাল পতাকা টাঙ্গানো হয়েছে। সেটা দেখে  ওই এলাকার মানুষ ওই বাড়ি ও বাড়ির মানুষ থেকে দুরে থাকবে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে। যখন মানুষ তার থেকে দূরে থাকবে। তবেই বিদেশ ফেরত ওই ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবে।