যশোরে মোবাইলকোর্ট থাকলে দাম কমছে, চলে গেলে বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম বেড়েছে। বাজারে জেলা প্রশাসনের মনিটারিং টিম সর্বক্ষনিক থাকলেও কোনোভাবে দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। অভিযোগ উঠেছে, যতক্ষণ মোবাইল কোর্ট বাজারে থাকে ততক্ষণ দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে। মোবাইল কোর্ট চলে গেলে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছামত দাম হাঁকান।

গত কয়েকদিন ধরে করোনা প্রতিরোধ করতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, স্যাভলন, ডেটল হ্যান্ডওয়াশ সংকট চলছে বাজারে। সাধারণ মানুষ কোনো দোকানে গিয়ে এই ধরনের সামগ্রী পাচ্ছেন না। এক প্রকার উধাও হয়ে গেছে। এছাড়া চাল, ডাল, তেল, লবন, পিয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের দাম বেড়েছে। গত কয়েকদিন ধরে চালের দাম কয়েকদফা বেড়েছে। যে চালের ২৫ কেজির বস্তা বিক্রি হতো এক হাজার টাকায়। সেই চাল এখন বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১২ থেকে ১৩শ’ টাকায়।

দড়াটানার এক ওষুধ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, হ্যান্ড স্যানিটাইজার তার দোকানে সব সময় থাকতো। এখন আর সাপ্লাই নেই। এর কারণও বলতে পারছে না কোম্পানি গুলো প্রতিনিধিরা। এক প্রকার উধাও হয়ে গেছে তা।

বেজপাড়ার দোকানি খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, কোনো কারণ ছাড়াই বড় বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছে। ফলে তাদের দাম বেশি দিয়ে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারী দোকানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ডেটল, স্যাভলন বিক্রি হচ্ছে না। তারা বলছে যোগান নেই।

শহরের চৌরাস্তার এক চায়ের দোকানি বলেছেন, চায়ের দাম বেড়েছে কেজিতে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। এছাড়া এই মুহুর্তে সচেতনতা হিসাবে তিনি মানুষকে ওয়ানটাইম কাপে চা খাওয়াতে চান। সে জন্য বাজারে গিয়েছিলেন। কিন্তু ৬০ টাকার কাপ বিক্রি হচ্ছে ১শ’ থেকে ১২০ টাকায়। চিনির দামও বেড়েছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে যোগান আছে পর্যাপ্ত। দাম বাড়ার কোনো কারন নেই। শ্রেণির ব্যবসায়ীরা সুযোগ বুঝে অতি মুনাফার ধান্দায় ব্যস্ত। বাজার মনিটারিং কমিটির সার্বক্ষনিক বাজারে নজর দেয়া উচিত। প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী বা সুশীল সমাজের লোকজনের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে জেল জরিমানার বিধান হওয়া জরুরি।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান জানান, অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।