করোনা : জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতাকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও সতর্কতা গ্রহণ করার দাবি জানিয়ে যশোরের জেলা প্রশাসকের স্মারকলিপি দিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি যশোরের নেততৃবৃন্দ যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

নেতৃবৃন্দরা স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাস সংক্রমণকে বিশ্বব্যাপী মহামারি ঘোষণা করেছে। চীন, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের ভয়ংকর পরিণতি লক্ষ্য করার পরও সরকার গত তিনমাসে যথাযথ উদ্যোগ ও প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি। এই মহাদুর্যোগ মোকাবেলায় জাতীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের কথা এখনও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। বিদেশ ফেরতদের বিষয়ে উদাসীনতা, দায়িত্বহীনতা, সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসাক্ষেত্রে চরম অরাজকতা, চিকিৎসা সামগ্রী এমনকী চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সরঞ্জামের ব্যবস্থা এখনও করা হয়নি।

চিকিৎসাক্ষেত্রে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় মহামান্য আদালতকে রুল জারি করতে হয়েছে। এর ফলে সারাদেশের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেখানে সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই।

দ্রব্যমূল্য ক্ষুদ্র ঋণ, এনজিও ঋণের কিস্তির বোঝা টানতে নিন্মবিত্ত ও গরিব মানুষ দিশেহারা। শিল্প, কল-কারখানা, শ্রমিক, গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেই। এমতাবস্থায় ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণাসহ ৮ দফা দাবি পেশ করা হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বাজেট পুনর্বিন্যাস করে তাৎক্ষণিকভাবে কমপক্ষে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, কিছু হাসপাতালকে বিশেষায়িত এবং জেলা-উপজেলায় পর্যাপ্ত বিশেষায়িত প্যাথলজিকাল ল্যাবরেটরি স্থাপন, ভর্তুকি মূল্যে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের জন্য চাল, ডালসহ স্যানিটাইজার ও সাবান সরবরাহসহ খাদ্য নিরাপত্তা, জনঘনত্বপূর্ণ এলাকা যেমন বস্তি, স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসস্থল, ভাসমান মানুষদের জন্য সুরক্ষা, সচেতনতা, পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করার ব্যবস্থা গ্রহণ, গার্মেন্টসহ শিল্প কারখানার শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, কর্মক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা ও  করোনার অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং ডাক্তার, চিকিৎসাসেবাকর্মী, সাংবাদকর্মী, পরিবহন কর্মী, পুলিশসহ জনসম্পৃক্ষ কাজে যারা যুক্ত আছেন তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মাকর্সবাদী) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাম গণতান্ত্রিক জোট যশোর জেলা সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক জিল্লুর রহমান ভিটু, বাংলাদেশের কমিউনিস্টর জেলা সভাপতি অ্যাড. আবুল হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মাকর্সবাদী) যশোরের সমন্বয়ক হাচিনুর রহমান, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ যশোরের সম্পাদক তসলিম-উর-রহমান প্রমুখ।