কালীগঞ্জে ৯৫ টাকার ইনজেকশন ১৯০ টাকা

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : মাত্র ৯৫ টাকার ঔষধ বিক্রি করছে ১’শ ৯০ টাকায়। কালীগঞ্জের ঔষধ ব্যবসায়ীরা এমআরপি রেটের অজুহাতে শতভাগ লাভ করায় এক অস্বাভাবিক দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছেন। তাদের যাতাকলে পড়ে প্রতিনিয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় ওইসব ঔষধ কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। তবে, ঔষধ ফার্মেসির মালিকগণ বলছে, জেলা সমিতির নিয়মেই তারা এমআরপি রেটে বাইরে ঔষধ বিক্রি করছেন। এদিকে পাশর্^বর্তী জেলা যশোর, মাগুরা, কুষ্টিয়া ও খুলনাসহ বিভিন্ন শহরে এমআরপি রেট বাদেও নগদ ছাড়ে ঔষধ বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু কালীগঞ্জে ঔষধ ব্যবসায়ীরা সমিতি আইন করে কোন ছাড় না দেওয়ায় এ নিয়ে প্রতিনিয়ত ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হচ্ছে। সর্বশেষ এমন অবস্থা সৃষ্টির পর তা নিরসনে স্থানীয় এমপি ও পৌর মেয়রের নির্দেশনাকেও বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়েছেন ওই ব্যবসায়ীরা। তাই এনিয়ে বর্তমানে হ য ব র ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সাধারণ ক্রেতা ও ভুক্তভোগীরা জানায়, গত প্রায় ৬ মাস যাবৎ কালীগঞ্জের ঔষধ ব্যবসায়ীরা আইন করে এমআরপি বডি রেটে ঔষধ বিক্রি করছে। সোমবার মাহমুদ রিয়াজ নামে একজন ক্রেতা শহরের লিটন ফার্মেসিতে ইনসেপটা কোম্পানির এক্্িরফিন ১ গ্রাম আইভি ইনজেকশনটি ১’শত ৯০ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন। ঔষধের দামটি অস্বাভাবিক নেওয়ায় তিনি বিষয়টি জানাতে জনপ্রতিনিধি কালীগঞ্জ পৌর মেয়র আশরাফুল আলম আশরাফের স্মরণাপন্ন্ হন। এসময় মেয়র আশরাফ ঔষধের প্রকৃত মূল্যটি যাচাই বাছাই করতে ওই কোম্পানির প্রতিনিধি আলমগীর হোসেনের নিকট ফোন করে জানতে পারেন, ইনজেকশনটির ফার্মেসি মূল্য মাত্র ৯৫ টাকা এবং বডি এমআরপি মূল্য লেখা ১’শত ৯০ টাকা। তবে ক্রয় এবং বিক্রি মূল্যের এত ফারাকের বিষয়টি মেয়রকে বলতে পারেননি ওই প্রতিনিধি। এরপর মেয়র আশরাফ ওই ঔষধের মূল্যটি আরো যাচাই করতে শহরে পাঠালে ন্যাশনাল মেডিকেল স্টোর, সাহা ফার্মেসি ও নিউ শান্তি মেডিকেল  ১’শ ৯০ টাকায় বিক্রি করলেও শুধুমাত্র মল্লিক ফার্মেসি ১০৫ টাকা দাম রাখে। পরে মেয়র মহোদয় ঔষধের দামের এমন ফারাকের বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদেরকে অবহিত করেন।

পৌর মেয়র আরো জানান, ঔষধের দামের এমন অস্বাভাবিক বিষয়টি নিয়ে ইতোপুর্বে তিনি ঔষধ ব্যবসায়ীদের সাথে একবার বৈঠকও করেছেন। সে বৈঠকে ব্যবসায়ীরা মূল্য স্বাভাবিক রাখার প্রতিশ্র“তি দিলেও পরে তা মানেনি। সর্বশেষ কালীগঞ্জ বাজার বণিক সমিতির সভাতে অতিরিক্ত মূল্যে ঔষধ বিক্রি করা নিয়ে অভিযোগ করেন খোদ বাজারের ব্যবসায়ী নেতারা। সে সভাতে স্থানীয় এম পি আনোয়ারুল আজিম আনার ঔষধ সমিতির নেতাদের জনসাধারণের কাছে সহনীয় মূল্য রাখার অনুরোধ জানান। কিন্তু সে অনুরোধও বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে পুনরায় গলা কাটা স্টাইলে ঔষধ বিক্রি করে চলেছে ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ঔষধ কিনতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষকে নাজেহাল হতে হচ্ছে।

এদিকে ঔষধের বাজার মূল্য ব্যাপক ফারাকের বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার জানান, জনগণ ঠকবে এমন কিছু ঔষধ ব্যবসায়ীরা করবে না। সোমবার ওই ঔষধের দামের বিষয়টি নিয়ে রাতেই তারা বৈঠক করেন এবং ক্লিনিক্যাল রেটের ঔষধগুলি স্বাভাবিক দামে বিক্রি করতে সিদ্ধান্ত নিয়ে পৌর মেয়রসহ তাদের সকল ব্যবসায়ীকে অবহিত করেছেন।

তবে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ঔষধ ফার্মেসির মালিকগণ বলেছে, ১’শ টাকার ঔষধে ১’শ টাকা লাভ করাটা অমানবিক। আর বাইরের শহরে কমে বিক্রি হচ্ছে স্বীকার করলেও এখানে সমিতি নামের যাতাকলে জরিমানার কবলে পড়তে হচ্ছে বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সূবর্ণা রানী সাহা সাংবাদিকদের জানান, এত বেশি লাভে ঔষধ বিক্রির বিষয়টি অমানবিক। তবে, ঔষধের বডি রেটের এমন ফারাকের বিষয়টি নিয়ে ঔষধ প্রশাসনের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।