কেশবপুরে পাওনা টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে শরিফুলকে খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর কেশবপুরের সাতবাড়িয়া গ্রামের শরিফুল হত্যা মামলায় আটক ইদ্রিস আলী আদালতে স্বীকারোক্তি জবানবন্দি দিয়েছে। পাওনা টাকা না দেয়ায় ছুরিকাঘাত করে শরিফুলকে সে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মঞ্জুরুল ইসলাম আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। ইদ্রিস আলী সাতবাড়িয়া গ্রামের মোলাম সরদারের ছেলে।

জবানবন্দিতে ইদ্রিস জানিয়েছে, শরিফুলের সাথে তার দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। বিভিন্ন সময় তারা বাজারে আড্ডা দিতো। একবছর আগে শরিফুল তার কাছ থেকে সাত হাজার টাকা ধার নেয়। ধারের টাকা পরিশোধ না করে ঘোরাতে থাকে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। শরিফুল কেশবপুরের আজাদ সাহেবেরে ভাটার পাশের এক মহিলার সাথে প্রেম করতো। গত ১৯ মার্চ রাতে শরিফুল তার প্রেমিকাকে তার কাছে নিয়ে এসে একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দিতে বলে। রাজি না হওয়ায় তারা একটি খেজুর বাগানে গিয়ে বসে। এর আগে শরিফুলের প্রেমিকার কাছে ঘুমের ট্যাবলেট মিশ্রিত এক বোতল কোমল পানীয় দেয়া হয়। একপর্যায়ে ইদ্রিস একটি ছুরি ও লাঠি নিয়ে তার কাছে যায়। কথাবার্তার মধ্যে ইদ্রিস পিছনে যেয়ে শরিফুলকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। সাতবাড়িয়া বাজারের মসজিদের পুকুরে চাকু ও মোবাইল ফেলে দিয়েছিল। পরে তার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ ওই ছুরি উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে জবানবন্দিতে।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, শরিফুল মোটরসাইকেলে ফেরি করে বিভিন্ন দোকানে বেকারির মালামাল সরবরাহ করতেন। গত ১৯ মার্চ রাতে শরিফুল বাড়ি থেকে বের আর ফেরেনি। পরদিন সকালে সাতবাড়িয়ার পাঁচআনি পাড়া থেকে  শরিফুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে নিহতের পিতা এমদাদুল হক অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কেশবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহ তিনজনকে আটক করে রোববার রিমান্ডে নেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় মঙ্গলবার ইদ্রিস আলীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। ইদ্রিস আলী হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ওই জবানবন্দি দিয়েছে।