প্রশাসনকে সহায়তা করতে মাঠে সেনাবাহিনী

স্পন্দন ডেস্ক : করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রশাসনকে সহায়তা করতে আজ বুধবার থেকে মাঠে নামছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। মঙ্গলবার যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সাথে মতবিনিময় করে করোনার বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তারা। প্রতিনিধিদের রিপোর্টে-

যশোর : মঙ্গলবার দুপুরে জেলা কালেক্টরেট সভাকক্ষে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবহিনীর দুজন পদস্থ কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন, সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলিপ কুমার রায় এসময় উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, সভায় করোনার বর্তমান পরিস্থিতিতে মোকাবেলায় কর্মকৌশল নিয়ে সেনাকর্মকর্তাদের সাথে আলাপ হয়েছে। আজ বুধবার থেকে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা করার লক্ষ্যে মাঠে নামবে।

সভাশেষে প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতির জাহিদ হাসান টুকুনের সাথে আলাপকালে  সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল নিয়ামুল ইসলাম বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশনে সতর্কতা অবলম্বন এবং বিভ্রান্তিকর বা গুজব রটে এমন কোনো সংবাদ পরিবেশন না করার বিষয় লক্ষ্য রাখার জন্যে বলেন।

যশোর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লে. কর্নেল নেয়ামুল ইসলাম বলেন, হোম কোয়ারেন্টাইনে যারা আছেন তাদের কারণে যেন সাধারণ মানুষ আক্রান্ত না হন তার জন্য সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এটা করতে যে স্টেপ নিতে হবে তার জন্য পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই এর প্রভাব সবাই দেখতে পাবেন। তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি বুঝে সেনাসদস্য বাড়ানো হবে। কোয়ারেন্টাইনের সংখ্যা মূল্যায়ন করে এর সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, আজ থেকে সেনাবাহিনীকে সাথে পেয়েছেন। সমন্বিতভাবে পেট্রোলিং করে মানুষকে বাড়ি থাকতে বাধ্য করা হবে। এখনো অপ্রয়োজনে মানুষ ঘোরাফেরা করছে তাদের বাড়িতে থাকতে বাধ্য করা হবে।

খুলনা :  করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বুধবার থেকে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করবে সেনাবাহিনী। বিদেশ ফেরত ও সন্দেভাজনদের শতভাগ কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত এবং আইস্যুলেশনের সব ধরনের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউসে ৫৫ পদাতিক ব্রিগেডের সাথে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় এসব কথা জানানো হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেন বিভাগীয় কমিশনার ডঃ মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। এ সময় পদাতিক ডিভিশনের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মোস্তাসেনুল বাকি, খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, পুলিশ সুপার এসএম সফিউল্রাহসহ স্বাস্থ্য বিভাগীয় ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ঠ দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরা : করোনো ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সিভিল প্রশাসনকে সহযোগিতার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় পৌঁেছছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অগ্রগামী দল।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে লে. কর্নেল ফারহানের নেতৃত্বে যশোর ক্যান্টনমেন্ট থেকে সাতক্ষীরায় পৌঁছে অগ্রগামী দলটি জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামালের সাথে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এক বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে করোনো ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব তৈরিতে সাধারণ মানুষকে বিনা কারণে ঘর থেকে বেরুনো রোধ ও বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণে এক যোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, সেনাবাহিনীর ২০০ সদস্যের একটি দল বুধবার থেকে মাঠে নামবে। প্রতি উপজেলায় নিয়োজিত থাকবে এক প্লাটুন সেনা সদস্য। প্রতিদিন সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে কাজে নামবেন।

এই বৈঠকের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জেলাবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আমি বিশ^াস করি করোনো ভাইরাসের কারণে সৃষ্ঠ বৈশি^ক মহামারী রোধে সাতক্ষীরাবাসী সচেতনতার পরিচয় দিয়ে নিজ ঘরে আবদ্ধ থাকবেন। তারা অহেতুক ঘর থেকে বেরুবেন না এবং এমন কিছু করবেন না যাতে কঠোর হতে হয়। প্রয়োজন হলে এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন শাফায়াত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বদিউজ্জামান ও মেজর সাবের।