করোনায় স্থবির যশোরের ক্রীড়াঙ্গন

মারুফ কবীর : জীবনের চেয়ে খেলা বড় নয়। সম্প্রতি এমন স্লোগান প্রচারনা করছে বিশ^ ক্রীড়াঙ্গন। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস যেমন পৃথিবীকে স্থবির করে দিয়েছে, তেমনি ক্রীড়াজগতকেও থমকে দিয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে, কোনো লিগ চলছে না। দেশের ঘরোয়া খেলাধুলা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে যশোরেও সব ধরনের খেলা বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এতে ক্রীড়াঙ্গনের ক্ষতির পাশাপাশি চরম ক্ষতিতে পড়বেন খেলোয়াড়রা। যশোর ক্রীড়াঙ্গনের কর্মকর্তারা বলছেন এমন পরিস্থিতিতে কারো কিছু করার নেয়। তারা খেলায়াড়দের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বলছেন জীবন বাঁচলে খেলা পরেও করা যাবে। অনেক কর্মকর্তা বলছেন খেলোয়াড়দের  আর্থিক ক্ষতি পূরণীয় নয় ,তবে তাদের পাশে থাকবো।

কর্মকর্তারা বলছেন ৩১ মার্চের পর পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার খেলা শুরু করা হবে । তারা আরও বলছেন, এ্যাথলেটিকস, রাগবি, গলফ থেকে ফুটবল, টেনিস,  ক্রিকেট কোনো খেলাই এখন আর করোনা শঙ্কার বাইরে নেই। করোনার কারণে যশোরে অনুষ্ঠিত খুলনা বিভাগীয় কাবাডি প্রতিযোগিতার সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের জেলা ভিত্তিক সব ধরনের লিগ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল খেলার কোচিং (প্রশিক্ষণ) বন্ধ করে দিয়েছেন কোচিং সেন্টারগুলো। খেলোয়াড়দের বাইরে অযথা ঘোরাফেরা না করে ঘরে অবস্থান করতে পরামর্শ দিয়েছেন জেলার ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা।

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব কবির বলেন, এবার দায়িত্ব নেয়ার পর আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট করেছি। এর পর করোনার প্রভাব পড়ায় সরকারি সিদ্ধান্তে যশোরে সব ধরনের খেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শহর ও উপজেল কেন্দ্রীক কোচিং সেন্টার পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়াও বাইরে ঘোরাফেরা না করে খেলোয়াড়দের ঘরে অবস্থান  ও স্বাভাবিক কাজ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সাভাবিক হলে পুনরায় খেলা মাঠে ফিরবে বলে আশা করছেন যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ এ কর্মকর্তা।

যশোর জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজামান মিঠু বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে জেলার সকল প্রকার ফুটবল লিগ স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিএফএ’র অন্তর্ভুক্ত সকল ফুটবল একাডেমিকে প্রশিক্ষণ বন্ধের জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারের বিধি অনুযায়ী খেলোয়াড়দের বাড়িতে থাকার অনুরোধ করেছেন তিনি। খেলায়াড়দের ব্যক্তিগত সমস্যা থাকলে যোগাযোগ করলে সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে বলেন এ কর্মকর্তা।

সাবেক জাতীয় ও যশোরের নিয়মিত ক্রিকেটার তুষার ইমরান বলেন, এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক। খেলোয়াড়রাও চরম ক্ষতিতে পড়বেন। তার পরেও মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেয়।  তিনি বলেন, ফিটনেস খেলোয়াড়দের মূল সম্পদ। সেটা ধরে রাখতে নিজ উদ্যোগে  বাড়িতে কসরত চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কোষাধ্যক্ষ ও ক্রিকেট কর্মকর্ত সোহেল মাসুদ হাসান টিটো বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক  কবে হবে তা জানি না, তবে স্বাভাবিক হওয়া মাত্র  টাইট সিডিউলের মাধ্যমে খেলা ও খেলোয়াড়দের ক্ষতি পুরনের চেষ্টা করা হবে।  যশোর ক্লেমন আছিয়া ক্রিকেট ইনসটিটিউটের পরিচালক ও ক্রিকেট কর্মকর্তা এহসানুল হক সুমন বলেন, করোনা পরিস্থিতি দীর্ধমেয়াদী হলে ক্রীড়াঙ্গনে চরম ক্ষতি হবে। তার পরেও সুস্থতা আগে পরে খেলাধুলা করা যাবে। সাবেক ফুটবলার ও ক্লাব কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন বলেন, করোনা কারনে বিশ^জুড়ে মানুষ অনিশ্চয়তায় আছে। খেলোয়াড়রাও এর বাইরে না। তার পরেও কষ্ট স্বীকার করে মেনে নিতে হবে। এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ভলিবল খেলোয়াড় রিজভী বলেন, প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা বাড়ি থেকে বাইরে বের হচ্ছি না। সতর্ক এবং স্বাস্থ্য রক্ষার নিয়মকানুন মেনে চলতে পরামর্শ দেন তিনি।