করোনা সন্দেহে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি একজনের নমুনা ঢাকায়

বিল্লাল হোসেন : নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে বুধবার যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে দুইজন ভর্তি হলেও এরমধ্যে একজনের নমুনা জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। অপরজনের কোন লক্ষণ না পাওয়ায় মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে দুপুরে হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেছে লে.কর্নেল নিয়ামুল ইসলাম, যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তরা। এসময় ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন যশোর মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এবিএম সাইফুল আলম, মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. গৌতম কুমার আচার্য্য, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. হারুন অর রশিদ, কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, পরিদর্শন টিমকে বলা হয়েছে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত বা সন্দেহজনকদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্টের (পিপিই) আপাতত সংকট নেই। সাড়ে ৩শ মজুদ রয়েছে। গ্লোবস রয়েছে ৭০ হাজার। তবে এক পিসও হ্যান্ড স্যানিটাইজার নেই। পরিদর্শন টিমকে আরো বলা হয় আইসোলেশন ওয়ার্ডে জরুরিভাবে দরকার একটি প্রোটেবল এক্সরে মেশিন, ১ টি ইসিজি মেশিন ও ১০টি পালস অক্সিমেটার। লে.কর্নেল নিয়ামুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সার্বিক সহায়তা করবে সেনাবাহিনী।  ইতোমধ্যে যশোর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড পরিদর্শন করা হয়েছে। ওয়ার্ডের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে জোর চেষ্টা চালানো হবে। তিনি আরো জানান, যশোর জেলায় ৮ প্লাটুন সেনাসদস্য মাঠে নেমেছে। প্রয়োজনে আরো সংখ্যা বাড়ানো হবে। পরিদর্শনের সময় তাৎক্ষণিকভাবে ডিসি হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহের আশ্বাস দেন। পরে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ইবনেসিনা হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের আইসি ইউনিট পরিদর্শনে যান। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান,  গত ২৪ ঘণ্টায় যশোর জেলায় আরো ৩১৩জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৯৭ জনকে । বর্তমানে মোট ১৬শ ৬৯ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে।