মাগুরায় পণ্যের ঘাটতি নেই,ক্রেতা কম বেড়েছে চাল ও রসুনের দাম

এস আলম তুহিন,মাগুরা :
করোনা আতঙ্কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হলে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্ককায় ক্রেতাদের মাগুরা পুরাতন বাজারে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে । সরেজমিন রবিবার মাগুরা পুরাতন বাজার ঘুরে দেখা যায়, করোনা আতঙ্কের কারণে সকাল থেকে রাত অবদি শহরতলীর ক্রেতারা নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস যেমন-চাল ,ডাল,আটা,পেয়াজ,রসুন, ভোজ্য তৈল,সাবান,হ্যান্ডওয়াস সহ বিভিন্ন পন্য ক্রয় করতে দেখা যায় । তাই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে মজুদ করছেন ক্রেতারা । আর এ সুযোগে অতি লোভী মুনাফা ভোগীরা এরই মধ্যে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে । বাজারে কোন পণ্য ঘাটতি না থাকলেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অনেকে ব্যবসায়ীরা নিত্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে লাভবান হচ্ছেন ।
মাগুরার পুরাতন বাজারে এরই মধ্যে চাল কেজিতে ৮-১০ টাকা হারে বেড়েছে । তাছাড়া সেই সাথে রসুনের দাম বেড়েছে । দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে খুচরা ব্যবসায়ীরা পাইকেরি ব্যবসায়ীদের দুষছেন । অপরদিকে দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ না থাকার কারণে বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেনক্রেতারা ।
দীর্ঘদিন পর মাত্র কয়েকদিন পেঁয়াজ,রসুনের দাম কমেছিল । এরই মধ্যে করোনা আতঙ্কে আলুর দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ টাকা থেকে ৫ টাকা । বর্তমানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫৫ টাকা ,৯০-১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় রসুন । প্রতি কেজি আমদানিকৃত রসুন বিক্রি হয় ১৬০-১৮০ টাকা ,প্রতিকেজি মরিচ বিক্রি হয় ৪০-৫০ টাকা ।
ব্যবসায়ীরা জানান, চালের পরিবহন না আসায় দাম বৃদ্ধির আশংকায় অনেক ক্রেতা বাজারে তাড়াতাড়ি এসে চাউল ক্রয় করছেন । চালের বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি । গত-দুই থেকে তিন দিনের ব্যবধানে ৮-১০ টাকা বেড়েছে চালের দাম । প্রতিকেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হয় ৪০-৪২ টাকা,৬৫-৬৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় বাশমতি চাল। প্রতি কেজি বি-আর-২৮ বিক্রি হয় ৪৪-৪৬ টাকা,কাজল লতা ৫৪-৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় । প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৫৬-৬৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় ।
ব্যবসায়ীরা আরো জানান, পরিবহন ব্যবস্থা যদি বন্ধ থাকে তবে চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরো বৃদ্ধি পারে ।
বাজার করতে আসা শিক্ষক রেজাউল ইসলাম জানান,করোনার কারণে দাম বৃদ্ধি পেতে পারে বিধায় তাড়াতাড়ি বাজার করতে এসেছি । তবে আগের তুলনায় চাল,পেয়াজ ও রসুনের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে । এভাবে চললে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্থ হবে । তবে সরকার যদি নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করে তাহলে সব কিছু নিয়ন্ত্রণে থাকবে ।
অন্যদিকে, করোনার কারণে অতি প্রয়োজনীয় হ্যান্ডওয়াশ,হ্যান্ডস্যানিসাইজার বাজারে ও ঔষুধের দোকান গুলোতে কম পাওয়া যাচ্ছে । সাধারণ মানুষের হাত ধোয়ার জন্য এ প্রয়োজনীয় না পাওয়াতে অনেক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ।
এদিকে,প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে করোনার কারণে যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল বন্ধ হলেও পণ্য পরিবহনের কোন গাড়ি চলাচল বন্ধ হবে না । নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন সবসময় চলাচল করবে । ফলে করোনার কারণে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাবে না বলে জানিয়েছেন বাজার মনিটরিং কর্মকর্তা ।