ঝিকরগাছায় এসিল্যান্ডকে ধাক্কা দেয়া সেই সুব্রত আটক

 

 

এম আলমগীর, বাঁকড়া (ঝিকরগাছা) :  যশোরের ঝিকরগাছায় কর্তব্যরত অবস্থায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. কাজী নাজিব হাসানকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যাওয়া সেই সুব্রত দাস ওরফে অমিতকে একই নম্বরের দুটি মটরসাইকেলসহ পুলিশ আটক করেছে। বুধবার সন্ধ্যায় ঝিকরগাছা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রাম তাকে আটক করা হয়েছে। সুব্রত দাস ওরফে অমিত পৌর সদরের কৃষ্ণনগর গ্রামের (পুজা মন্দিরপাড়ার) মৃত রতন কুমার দাসের ছেলে। অপরদিকে আহত এসিল্যান্ড ডা. কাজী নাজিব হাসানকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলমান করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ঝিকরগাছা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. কাজী নাজিব হাসান রোববার বিকালে যশোর বেনাপোল মহাসড়কের বেনেয়ালীতে নাম্বারবিহীন মোটরসাইকেল, লাইসেন্স বিহীন চালক, মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছিলেন। এসময় দ্রুত গতি সম্পন্ন যশোর-ল ১১-২৩৩৫ নম্বর মোটরসাইকেল চালক সুব্রত দাস ওরফে অমিত গতি না কমিয়ে (এসিল্যান্ড) ডা. কাজী নাজিব হাসানকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এসময় এসিল্যান্ড মারাত্মক আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। সঙ্গীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর শহরের বেসরকারি পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুর্ঘটনায় তার ডান পায়ের বেশ কয়েকটি স্থান ভেঙ্গে যায় এবং কলারবোনও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। যশোর পঙ্গু হাসপাতালে ডা. কাজী নাজিব হাসানের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি তরা হয়।

বুধবার সকালে ফরিদপুর মেডিকেল থেকে ডা. কাজী নাজিব হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার যোগে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার অধ্যাপক অনাদি মন্ডল জানিয়েছেন, দুঘর্টনায় ডা. কাজি নাজিব হাসানের শরীরে প্যানক্রিয়াটাইটিস বা অগ্নাশয়ে প্রদাহ দেখা দিয়েছে, যা খুব ঝুকিপূর্ণ। তার প্রচ- পেটে ব্যাথা হচ্ছে। যেকোন সময় সিসিইউ আ আইসিইউ দরকার হতে পারে। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিস সহকারী শাহাজালাল বাদি হয়ে ঝিকরগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী অফিসার ঝিকরগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার এস আই দেবব্রদ দাস তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে বুধবার সন্ধ্যায় মুলহোতা সুব্রত দাস ওরফে অমিতকে একই নাম্বারের দুটি মোটরসাইকেলসহ আটক করেছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত অপর ব্যক্তি  উপজেলার বেনেয়ালী গ্রামের শাহাজাহান আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল শাকিলকে সোমবার পুলিশ আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

এদিকে ঘটনায় ব্যবহারিত একই নাম্বারের দুটি মোটরসাইকেল পাওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যশোর ল-১১-২৩৩৫ একই নাম্বারের লাল ও কালো রংয়ের মোটরসাইকেল দুটি কার নামে রেজিষ্ট্রেশন সে ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন বলে থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই দেবব্রত দাস জানিয়েছেন। তবে, একটি মোটরসাইকেল একজন হোমিও ডাক্তারের নামে রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে বলে জানা গেছে।