গোলপাতা আহরণ শেষে সুন্দরবন থেকে খুশি মনে ফিরছেন বাওয়ালীরা

কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধি : সুন্দরবন অভ্যন্তরে শেষ হয়েছে গোলপাত আহরণ মৌসুম। কোনো হয়রানি ছাড়া গোলপাতা কেটে বাড়ি ফিরছেন বাওয়ালীরা। নির্বিঘেœ পাতা কাটতে পেরে বাওয়ালীরা খুশিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোলপাতা আহরণের ভরা মৌসুমে এবার বাওয়ালীদের বিএলসি (অনুমতি) দেয়ার ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই কঠোর ছিল বনবিভাগ। খুলনা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. আবু সালেহ বলেন, বাওয়ালীরা যাতে বন অভ্যন্তরে নির্বিঘেœ গোলপাতা কাটতে পারে তার জন্য বন বিভাগ থেকে বরাবরের মত এবারও কঠোর নিরাপত্তা নেয়া হয়। চলতি বছর সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের খুলনা রেঞ্জে গোলপাতা কুপে গোলপাতা সংগ্রহের জন্য ২৩৯ টি বিএলসির অনুকূলে বাওয়ালিরা ১ লাখ ১৮ হাজার ৮০৪ মণ গোলপাতা সংগ্রহ করার অনুমতি (পারমিট) নিয়েছিল। তবে বন বিভাগের কঠোর নজরদারির কারনে কোনো প্রকার ঠেসপাতা, মাইজপাতা নষ্ট না করে নিয়মমাফিক গোলপাতা কেটে বাড়ি ফিরেছে বাওয়ালীরা।

সুন্দরবন খুলনা বিভাগের বন প্রহরী কল্যাণ সমিতির সভাপতি অলিয়ার রহমান (মিলন) বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি থেকে এ সকল বিএলসির অনুকুলে পারমিট দেয়া শুরু হয় এবং গোলপাতা আহরণ মৌসুম ২৬ মার্চ পর্যন্ত চলে। তবে গোলপাতা আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা ছিল। লক্ষ্যমাত্রাপুরণ হওয়ায় বন বিভাগও খুশি। খুলনা গোলপাতার কূপ কর্মকর্তা শেখ মো. আনিছুর রহমন বলেন, নিয়ম মেনেই গোলপাতা আহরণের অনুমতি দেয়া হয়। আর আমাদের নিয়ম মেনে বাওয়ালীরা এ বছর গোলপাতা কাটায় তারা লাভবান হবে।

বনবিভাগের দেয়া তথ্য মতে, বরাবরের মত এবারো গোলপাতা আহরণের ক্ষেত্রে বাওয়ালীদের বেশ কিছু শর্ত দেয়া হয়। শর্তগুলোর মধ্যে ছিল ৫শ মণের বেশি ধারণ ক্ষমতার নৌকা বিএলসির বাইরে থাকবে। গোলপাতা আহরণের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় বনে অবস্থান করা যাবে না, আহরণের সময় বনবিভাগের নির্দেশনা সঠিকভাবে পালন করতে হবে, গোলপাতা ঝাঁড়ের মাইজপাতা ও ঠেকপাতা কোনো ভাবেই কর্তন করা যাবে না এবং গোলপাতার আড়ালে যাতে কোনো ধরণের ‘বনজদ্রব্য পাচার না হয় সে বিষয়টি নিবিড় ভাবে নিরীক্ষণ পূর্বক নিশ্চিত করতে হবে। সুন্দরবন উপকূলীয় নলিয়ান এলাকার বাওয়ালী জুলফিক্কার আলী জুলু জানান, ২০ বছর ধরে তিনি সুন্দরবন থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তবে বনবিভাগের এবারকার মতো কড়াকড়ি আগে কখনও দেখেননি।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল আল-মামুন বলেন, শর্ত পালনের ক্ষেত্রে নজরদারি রাখা হয়। ফলে কোনো অভিযোগ ছাড়াই শেষ হয়েছে গোলপাতা মৌসুম।