মোংলায় জেলে পল্লীতে কর্মহীন, চায় আর্থিক সহায়তা

 


এরশাদ হোসেন রনি,মোংলা :
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনসমাগম ও চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার । এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে কর্মজীবী মানুষ। বিশেষ করে কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন মোংলার জয়মনি গ্রামের জেলেপল্লীর জেলেরা। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। সবমিলিয়ে গত কয়েক দিনে তাদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। যথাসময়ে জেলেদের কাছে খাদ্য সহায়তা না পৌঁছানোর কারণে হাজার হাজার জেলে পরিবার মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। জেলেরা জানান, অন্য পেশার মানুষ বারো মাস আয় করতে পারেন। কিন্তু বছরে কয়েক দফা মাছ শিকার নিষেধাজ্ঞা থাকা জেলেদের। মাঝেমধ্যে পেটের দায়ে কেউ মাছ ধরতে নামলে ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক করে জেল-জরিমানা, জাল-নৌকা জব্দ করে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক জেলে। এর কারণে এখন করোনার এই সময়ে কেউ ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে নামছেন না। জেলেরা আরো জানান, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা দস্যু, সবকিছুই মোকাবিলা করে সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীতে এসব জেলেরা মাছ শিকার করে থাকেন। জীবিকার জন্য জীবন বাজি রেখে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে অনেক সময় তাদের অথৈ সাগরে যেতে হয় মাছ শিকারে। বর্তমানে করোনার কারণে তারা কাজে যেতে পারছেন না। এর কারণে তিন বেলা খাবারও জুটছে না এসব কর্মহীন জেলেদের।
সুন্দরবনের জয়মনির ঠোটার জেলে পল্লীর জেলে আব্দুল্লাহ বলেন, এহন আমাগো খারাপ দিন। নদীতে মাছ ধরতে দেয় না । মাইয়ে, পোলা নিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে আছি। মাছের উপর সংসার চলে। তিনি আরও বলেন, এই পল্লীতে স্থায়ী প্রায় ৫ হাজার মানুষ থাকে। অন্যান্য এলাকা থেকে মাছের মৌসুমে আরও ৫ হাজার মানুষ আসে। মাছ ধরি বদ্দর, হরিণটানা, আন্ধাররা, মাইডা থেকে। এখন কোথাও মাছ ধরতে দেয় না। তাই জাল, দড়ি, লগি, বৈঠা, নৌকা ঠিক করে সময় কাটছে।
মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের সিন্দুরতলা এলাকার জেলে অরেবিন্দু রায় বলেন, এমনি তে তো কোনো পোনা ধরতে দিচ্ছিল না কয়েক মাস ধরে। কিছু সাদা মাছ ধরে সংসার চালাতাম তাও এখন বন্ধ।

তিনি বলেন, তাদের গ্রামে প্রায় ৩০০ মৎস্যজীবী রয়েছেন। করোনার কারণে সবাই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। যাদের অনেকের চুলা এখন জ্বলছে না।
গত বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে জয়মনি জেলে পল্লীর দুই শতাধিক জেলে পরিবারে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেই এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ড বাহিনী পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন এম হাবিবুল আলম। সরকারিভাবেও জেলেদের ত্রাণ বিতরণ করা হয় কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল বলে জানান জেলেরা।
বাগেরহাট উপকূলী মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইদ্রিস আলী বলেন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকে কোনো জেলে নদ-নদী, খাল-বিল এমনকি সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন না। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার জেলে পরিবার।