কৃষকের ঋণের সুদহার ২ শতাংশ করার অনুরোধ সিপিডি’র

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় কৃষকদের ২ শতাংশ সুদে টাকা ঋণ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ‘কোভিড-১৯-সরকার গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কার্যকারিতা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও আয় নিরাপত্তা: সিপিডির প্রাথমিক বিশ্লেষণ ও প্রস্তাব’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ অনুরোধ জানায় সিপিডি।

ব্রিফিংকালে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কৃষিখাতের জন্য সরকার যে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা দিয়েছে, আমাদের অনুরোধ থাকবে অন্যান্য খাতের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে সুদের হারটি যেন সমন্বয় করা হয়। এমনকি এটা যদি ২ শতাংশ পর‌্যন্ত নামানো যায় তাহলেও কৃষকদের জন্য উৎপাদন ব্যয়ে একটা সাশ্রয় হবে।
covid

‘কৃষকেদের এই মুহূর্তে টাকা খুবই প্রয়োজন। অনেক কৃষক, যারা পচনশীল খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করেন, তারা কিন্তু এর মধ্যেই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেঞ। তাদের হাতে এখন টাকা নেই। সুতরং দ্রুততর সময়ে কৃষকদের কাছে অর্থ পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ।’

সরকার কৃষক থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে ২০০৮ সাল থেকে কৃষকদের ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুবিধা প্রদান করে আসছে। বর্তমানে এক কোটিরও বেশি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। প্রণোদনার টাকা দ্রুত পৌঁছানোর জন্য এসব ব্যাংক হিসাবে টাকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের তথ্যর একটি গুররুত্বপূর্ণ উৎস হবে, যে সব কৃষকের ১০ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, সেটার মাধ্যমে টাকা দেওয়া। এ তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। এটি দিয়েই মোটামুটি ভাবে বড় অংশের কৃষকের কাছে পৌঁছানো যাবে দ্রুততর সময়ে। আমরা আশা করবো, এ বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর ক্ষতি সামলে উঠতে গ্রামের ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিদের জন্য সরকার যে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করেছে, সেখান থেকে ঋণে সুদের হার সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার এক নীতিমালা ঘোষণা করেছে। এ তহবিলের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ১ শতাংশ সুদ হারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ।

কৃষক যেন বোরো ধান কাটতে গিয়ে সমস্যায় না পড়ে সে দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ধান কাটার ক্ষেত্রে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। এই মুহূর্তে হাওর অঞ্চলে ধান কাটাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সিপিডির প্রস্তাবনায় বলেছি, জরুরি ভিত্তিতে ধান কাটার জন্য। যদি আশপাশের অঞ্চল থেকে হারভেস্টার মেশিন এনে ধান কাটার দরকার হয়, কৃষি মন্ত্রণালয় যেন দ্রুততর সময়ে সেই সমন্বয়টি করে।

‘ধান কাটার জন্য বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিকরা হাওর অঞ্চলে যেয়ে থাকেন, সেখানেও যদি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ থাকে, তাদের মুভমেন্টের ব্যাপারটি, যাতায়াতের ব্যপারটি যদি শিথিল রাখা হয়, তাহলেও ধান কাটার ক্ষেত্রে এখন যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেটি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।’

জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে দেশে ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর প্রায় ২৩ শতাংশই হাওর অঞ্চলে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে এরই মধ্যে হাইব্রিড জাতের কিছু ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে। পুরো দমে বোরো ধান কাটা শুরু হবে ১৫ এপ্রিলের পর থেকে।

কৃষি পণ্যের সরবরাহ চেইন যেন সচল থাকে এ ব্যাপারে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমরা মনে করি, আমাদের জন্য এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য বা খাদ্যপণ্যের সরবরাহ চেইনটা ঠিক রাখা। যেন কোনোভাবেই এখানে নেতিবাচক প্রভাব না হয়। এটা যেন সচল থাকে। ধানের উৎপাদন, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক। আর একটি বিষয় অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে এবং আমাদানি পর্যায়ের সরবরাহ চেইনও আমাদের সচল রাখতে হবে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে, এবারে কিছু কিছু পণ্য গত বছরের চেয়ে কম আমদানি হয়েছে।

‘এই জায়গাটি যেন বিবেচনায় নেওয়া হয়। গত চার মাসের তথ্য বিশ্নেষণ করে আমরা দেখছি, সয়াবিন তেলের আমদানি বাড়ার সুযোগ রয়েছে, এছাড়া আদা, রসুন এগুলোরও হয়তো আমদানি কিছুটা বাড়ানেরা সুযোগ রয়েছে। এই বিষয়টা দেখার জন্য সরকারের যারা রয়েছেন, তারা যদি বিবেচনা করেন, তাহেলে দেশে খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ আগামী দিনগুলোতে হয়তো স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে আরও সংযুক্ত হন সিপিডির ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক ও সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।