ত্রাণ চাওয়ায় দিনমজুরকে মারধর, ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের লালপুরে ৩৩৩ নম্বরে ফোন করে একজন দিনমজুর ত্রাণ চাওয়ায় তাকে মারধর করার ঘটনায় অভিযুক্ত অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুস সাত্তারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ভুক্তভোগী দিনমজুর শহিদুল ইসলাম লালপুর থানায় উপস্থিত হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন ৫ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রেজাউল করিম ও জনৈক হযরত আলী। তাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা জানান, গত রোববার (১২ এপ্রিল) নিজ এলাকার প্রায় দুই শতাধিক কর্মহীন মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা চেয়ে ন্যাশনাল হেল্প ডেস্ক ৩৩৩-এ ফোন করেন দিনমজুর শহিদুল। ত্রাণ পৌঁছে দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তারকে দায়িত্ব দেন। আব্দুস সাত্তার গ্রাম পুলিশ দিয়ে শহিদুলকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে আনেন।

এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তারসহ ইউপি সদস্য রেজাউল করিম এবং হযরত আলী মিলে দিনমজুর শহিদুল ইসলামকে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের কক্ষে নিয়ে মারধর করেন। এ ঘটনায় দিনমজুর শহিদুল দুপুরে লালপুর থানায় হাজির হয়ে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে এজাহার দাখিল করলে তাৎক্ষণিকভাবে লালপুর থানা পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করেন।

চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার জানান, ত্রাণ চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে একটু উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। পরে ইউএনও এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের উপস্থিতে বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে। কৃষককে মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়। আর মামলার বিষয়টিও তিনি জানেন না।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মুল বানীন দ্যুতি জানান, এ ঘটনায় চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করা হয়েছে। ঘটনার জন্য চেয়াম্যানকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী দিন মজুর শহিদুল ইসলাম জানান, টিভি স্ক্রিনে সরকারি সহায়তার হটলাইন নম্বর ৩৩৩ দেখে তিনিসহ এলাকাবাসীর ত্রাণ সামগ্রী না পাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছিলেন। এরপর চেয়ারম্যান তাকে ডেকে মারধর করেন। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানের লোকজনের হুমকির মুখে আছেন। তিনি তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এই মুহুর্তে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম রেজা জানান, মামলার সঠিক তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগীকে আইনী সহায়তা দেওয়া হবে, তাকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

এ ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে লালপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলী জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ জেলা আওয়ামী লীগকে জানানো হয়েছে। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।