যশোর স্টেডিয়ামে ঝুলছে তালা, ঘরবন্দি খেলোয়াড় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

মারুফ কবীর : করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া তথা সবধরণের খেলা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত। এমন অবস্থায় দেশের প্রতিটি স্টেডিয়ামেই সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। বেশিরভাগ ক্লাব, ফেডারেশনগুলোতে ঝুলছে তালা। যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামেও এমন পরিস্থিতি বিরাজমান। স্টেডিয়ামের পাশাপাশি ভলিবল গ্রাউন্ড, জিমনেসিয়াম, ব্যায়ামাগার , আমেনা খাতুন ক্রিকেট গ্যালারি ও বাস্কেটবল গ্রাউন্ড বন্ধ রয়েছে। তবে কিছুদিন আগেও খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের পদচারনায় সমাগম থাকতো যশোরের এ স্টেডিয়ামটি। সারা বছর কোনো না কোনো খেলা থাকতো মাঠে। বিকেলে সৌখিন খেলোয়াড়রা ফুটবল খেলতেন ও  শারিরিক কসরত করতেন। অনেকে গ্যালারিতে হাঁটতেন। মোটকথা মানুষের পদচারনায় মুখর থাকতো স্টেডিয়াম। এমনকি পাশে এমএম কলেজের হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা স্টেডিয়ামে আসতো হাটাচলা ও সময় কাটাতে। তবে করোনার কারনে স্টেডিয়াম  ও আশপাশের এলাকা ফাঁকা। স্টেডিয়ামের ফটকে ঝুলছে তালা। স্টেডিয়ামের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরাও আসছেন না অফিসে। তারা বাড়ি বসে অলস সময় অতিবাহিত করছেন। করোনা ভাইরাসের কারনে সকলে এখন ঘরবন্দি । সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে যশোরেও সব ধরনের খেলা বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এতে ক্রীড়াঙ্গণের ক্ষতির পাশাপাশি চরম ক্ষতিতে পড়বেন খেলোয়াড়রা। যশোর ক্রীড়াঙ্গণের কর্মকর্তারা বলছেন এমন পরিস্থিতিতে কারো কিছু করার নেই। তারা খেলোয়াড়দের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বলছেন জীবন বাঁচলে খেলা পরেও করা যাবে। যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব কবির বলেন, বিকেল হলে মাঠে ( স্টেডিয়ামে) না গেলে যেন ভালো লাগে না। বেশ কয়েকদিন হলো স্টেডিয়ামে যায় না। বাসায় বসে সময় পার করছি। এমন পরিস্থিতিতে কারো কিছু করার নেই। সকলকে বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। প্রাকৃতিক এ দুর্যোগ কেটে গেলে আবারও সরগরম হবে যশোরের ক্রীড়াঙ্গণ। করোনার প্রভাবে সরকারি সিদ্ধান্তে যশোরে সব ধরনের খেলা বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় খেলা মাঠে ফিরবে বলে আশা করছেন তিনি। পাশাপাশি স্টেডিয়ামে ফিরে আসবে মুখরতা। যশোর জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজামান মিঠু বলেন, বিশ^ব্যাপি সকল খেলা বন্ধ রয়েছে। একের পর এক  লিগ, টুর্নামেন্ট চলে যশোরের স্টেডিয়ামে। করোনা ভাইরাসের কারনে সকল খেলা বন্ধ রয়েছে। খেলা না থাকায় মাঠে আসা হয় না। যে কারনে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের পদচারনা নেয় স্টেডিয়ামে। সুনশান করছে স্টেডিয়াম এলাকা। এমন পরিস্থিতিতে কিছু বলার নেই। শুধু পরিস্থিতি ভালো হওয়ার পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া কোন উপায় নেই। সাবেক জাতীয় ও যশোরের নিয়মিত ক্রিকেটার তুষার ইমরান বলেন, ফিটনেস খেলোয়াড়দের মুল সম্পদ। এমন পরিস্থিতিতে তা ধরে রাখা কষ্টের। ফিটনেস  ধরে রাখতে নিজ উদ্যোগে  বাড়িতে কসরদ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।  স্টেডিয়ামে যেতে মন চেলেও যেতে পারছিনা । এটা খেলোয়াড় হিসেবে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। আশা করি দ্রুত পরিস্তিতি কেটে উঠবে এবং স্টেডিয়াম অবারও  মুখর হয়ে উঠবে। ভলিবল কর্মকর্তা শহীদ আহমেদ বলেন, স্টেডিয়াম ঘেষে আলাদাভাবে করা হয়েছে ভলিবল গ্রাউন্ড। বিশেষ করে সাবেক ও বর্তমান ভলিবল খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা নিয়মিত আসেন এখানে। তবে প্রায় একমাস তালা ঝুলছে। করোনার কারনে কেউ  আসছেন না মাঠে। এমন পরিস্থিতিতে অপেক্ষা করা ছাড়া কেনো পথ দেখছি না। যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামের অফিস সচিব মনিরুজ্জামান মুকুল বলেন, বাসায় শুয়ে বসে দিন কাটাচ্ছি। এক মাস স্টেডিয়ামে যায়না। স্টেডিয়ামের প্রতিটি গেটে তালা দিয়ে দেয়া হয়েছে। কি আর করা । স্টেডিয়ামের ১০ জন কর্মচারি বেতন পেয়েছেন। তারপরেও মাঠে (স্টেডিয়ামে) না যেতে পারাটা কষ্টদায়ক।