করোনা থমকে দিয়েছে সুর মূর্ছনা, মানবসেবায় সাংস্কৃতিক কর্মীরা


নিজস্ব প্রতিবেদক:
এইতো সেইদিন সাংস্কৃতিক সংগঠন কার্যালয়ের পাশ দিয়ে গেলে শোনা যেত ঢোল তবলা হারমোনিয়ামের আওয়াজ। শিল্পীদের কণ্ঠের গান। জাঁকজমক ছিল কার্যালয়। কিন্তু করোনা থমকে দিয়েছে সুর মূর্ছনা। সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার আতুরঘর জেলা শহর যশোরে থমকে আছে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। করোনাভাইরাসের এই পরিস্থিতিতে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোতে এখন সুনশান নিরবতা। জেলা শহরের ৩৩ টিসহ বাকি ৮ উপজেলার শতাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। রয়েছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমি। বছরের সবচেয়ে বড় উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪২৭ উপলক্ষে সরকারের নির্দেশনায় কোন সংগঠন আয়োজন করেনি বর্ষবরণ উৎসব। শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক সকলেই নির্মম এই বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে একাট্টা হয়ে। ইতোমধ্যে নিজেদের অর্থদিয়ে সামর্থ অনুযায়ী অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে পৌঁছে দিয়েছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ও খাদ্য সামগ্রী। যা এখনো অব্যাহত আছে। শুক্রবার থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কৃষকের ধান কেটে দিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে মাঠে নামছে সাংস্কৃতিক কর্মীদের ২০ টি টিম। যশোর শহরের প্রাচীনতম সংগঠন যশোর ইনস্টিটিউট, সুরবিতান সঙ্গীত একাডেমি, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, সুরধুনী সঙ্গীত নিকেতন, পুনশ্চ যশোর, বিবর্তন যশোর, চাঁদের হাট, তির্যক যশোর, শেকড়, যশোর সাহিত্য পরিষদ, বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদ, নৃত্য বিতান, স্পন্দন, শিল্পী সৃষ্টি সংস্থা, শ্রুতি সঙ্গীত একাডেমি, অগ্নিবীনা, স্বগতকন্ঠসহ সব সংগঠনের কার্যালয়ে এখন আর কারো আনাগোনা নেই। তবে সাংস্কৃতিক সংগঠন গুলোর সেবামূলক কার্যক্রমের প্রয়োজনে কখনো মোবাইল কনফারেন্সের মাধ্যমে আবার কখনো সুবিধামতো স্থানে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সেরে নিচ্ছে সভা। সাংস্কৃতিকজন সুকুমার দাস বলেন, সংগঠনে লকডাউন চলছে। এই অবস্থায় গৃহবন্দি মানুষকে সাহায্য দিতে আমাদের কর্মীরা কাজ করছে।
যশোর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার আলম খান দুলু জানান, এখন কোনো সংগঠনের কোনো কার্যক্রম নেই। কাজ একটাই আর সেটা হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাহামুদ হাসান বুলু বলেন, যশোর সাংকৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকলেও সাংস্কৃতিককর্র্মীরা বসে নেই। সকলেই বর্তমান পরিস্থিতিতে সেবামূলক কাজ করছে।