কলারোয়ায় প্রেমিকার পরিবারের পিটুনিতে প্রেমিকের মৃত্যু, প্রেমিকার মা বাবা আটক


আতাউর রহমান, কলারোয়া(সাতক্ষীরা)
কলারোয়ায় কলেজ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১ টায় নিহত ছাত্রের বাবা উপজেলার যুগিখালি ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের বজলুর রহমান শেখ বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
থানা পুলিশ ও গ্রামবাসী সূত্র জানায়, উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কামরুল ইসলামের মেয়ে সায়মা জামান ময়নার (১৬) সাথে একই গ্রামের বজলুর রহমান শেখের ছেলে তুষার হোসেন জনির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ময়না ছলিমপুর ছালেহা হক বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ও তুষার ঢাকা পলিটেকনিক কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র। পরে মেয়ের পরিবারের লোকেরা মোবাইল ফোনে ডেকে আনে তুষারকে। রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তুষার সেখানে যাওয়া মাত্রই ময়নার বাবা কামরুল, চাচা বাসারুল, পিন্টু, রিন্টুসহ কয়েকজন তুষারকে মারপিট করে। এ সময় তুষার জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তুষারের বাবাকে ডেকে আনা হয়। রাতে অচেতন ছেলেকে নিয়ে তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তুষারের মুত্যৃ হয়। কলারোয়া থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস জানান, কলেজ ছাত্র তুষারের মৃত্যুর ঘটনায় পাইকপাড়া গ্রামের বজলুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা খাতুন, বজলুর রহমানের বাবা রিয়াজউদ্দিন ও একই গ্রামের রহিম বক্স দফাদারের ছেলে ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) তৌফিক আহম্মেদ জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। যুগিখালি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, করেনা পরিস্থিতির কারনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে নিহত তুষারের জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।