যশোর আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর মৃত্যুতে চিকিৎসক সেবিকাসহ ১০ জনের নমুনা সংগ্রহ

বিল্লাল হোসেন : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনায় আক্রান্ত সন্দিগ্ধ এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার নাম মোহাম্মদ আলী (৩০)। তিনি সদর উপজেলার বলাডাঙ্গা গ্রামের জামির আলীর ছেলে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তার সংস্পর্শে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার আরো ১০ জন চিকিৎসক সেবিকা ও কর্মচারীর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আর রাতেই ওই রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিলো। এর আগে দুই রোগীর সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক সেবিকাসহ ২৮ জনকে হোমকোয়ারেন্টাইনে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। নতুন করে আরো ১০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হতে পারে। এদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে গত ২৪ ঘন্টায় যশোরের ২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ওই ব্যক্তি হলেন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও)। তিনি আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিন যশোর জেলা থেকে ৮০ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে  খুলনার ল্যাবে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানিয়েছেন, বুধবার দুপুরে মোহাম্মদ আলীকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনেন স্বজনেরা। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ভর্তি করে মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন। সেখানে তার চিকিৎসাসেবা শুরু হয়। বিকেলে তার শাররিক উপসর্গ দেখে দায়িত্বরত চিকিৎসক সন্দেহ করেন মোহাম্মদ আলী করোনায় আক্রান্ত হতে পারেন। পরে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করেন। পাশাপাশি করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার  জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করেন। আরএমও আরিফ আহমেদ জানান, আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টার দিকে মারা যান মোহাম্মদ আলী। তার প্রচন্ড জ্বর, কাঁশি ও শ্বাস কষ্ট ছিলো। অথচ রোগীর লোকজন উপসর্গ গোপন করে অ্যাজমার রোগী বলে মোহাম্মদ আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। সন্দেহ করা হচ্ছে তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার মৃতদেহ বাড়িতে সাবধানতার সাথে পাঠানো হয়েছে। তার সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক সেবিকাসহ ১০ জনের নমুনা বৃহস্পতিবার সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।  আরএমও জানান, এরআগে গত ২৩ এপ্রিল যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি গ্রামের এক ব্যক্তি করোনারি কেয়ার ইউনিটে ও আরেক ব্যক্তি মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। তাদের করোনা ভাইরাসের উপসর্গ থাকলেও তথ্য গোপন করেছিলেন। পরীক্ষায় তাদের করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। ফলে তাদের সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক সেবিকাসহ ২৮ জনকে হোমকোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছিলো। তাদের মধ্যে ১৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বাকিদের নমুনা পর্যায়ক্রমে সংগ্রহ করা হবে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানান, এমনিতেই চিকিৎসক সেবিকা সংকট। তারপরেও এই অবস্থা চলতে থাকলে হাসপাতাল অতি দ্রুত চিকিৎসক সেবিকা ও কর্মচারী সংকট মারাতœক আকার ধারণ করতে পারে। তখন চিকিৎসাসেবা বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। তিনি জানান, চিকিৎসক সেবিকারা  সেবা দিতে প্রস্তুত থাকলেও রোগীর উপসর্গ গোপন করে  তাদের বিপাকে ফেলা হচ্ছে। এই বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক। এদিকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.আলমগীর হোসেন জানান, আক্রান্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে (আরএমও) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। বাসা লকডাউন করা হয়েছে। তার সংস্পেের্শ আসা সকলের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। যশোরের সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, যবিপ্রবির ল্যাব পরিস্কার পরিছন্ন করছে কর্তৃপক্ষ। তাই আপাতত সেখানে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। যে কারণে নমুনা খুলনার ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে চলতি সপ্তাহে আবারও যবিপ্রবিতে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে। সিভিল সার্জন আরো জানান, নমুনা পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবারও দেড় হাজারের বেশি কিট আনা হয়েছে।