গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের ধান কেটে সহযোগিতার আহবান কৃষক সংগ্রাম সমিতির

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের ধান কেটে দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মিদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির। এক যুক্ত বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস মহামারীতে গৃহবন্দী কর্মহীন ক্ষুধার্ত মানুষদের জন্য ন্যূনতম খাবার নিশ্চিত করা ও চিকিৎসা প্রদান, ঋণ নয় কৃষকদের সরাসরি প্রণোদনা প্রদান, কৃষক ও খামারীদের ফসল-পণ্য বিপননে সরাসরি সরকারি তত্ত্বাবধান, সরকারী তত্ত্ববধানে ফসল কাটার পর্যাপ্ত ব্যবস্থার দাবি ও কৃষক কর্মিদের ফসল কাটায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ অর্থনীতির ভিত্তি হচ্ছে কৃষি। করোনার আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে যদি কৃষিকাজ বন্ধ থাকে, বাইরে থেকে কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী না আনা যায়, দ্বিতীয় ভয়াবহ বিপর্যয়টি শুরু হবে। প্রায় সব রাষ্ট্রে খাদ্য উৎপাদনের ঘাটতি থাকার আশঙ্কা রয়েছে এবার। ফলে বাইরে থেকে খাদ্য কিনে ঘাটতি মেটানোর সুযোগ থাকবে না। অথচ সরকার এখনো পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। কৃষি মন্ত্রী বলেছেন সরকারিভাবে সুনামগঞ্জের কৃষকের কাছ থেকে সরকার ২৫ হাজার ৮৬৬ মেট্রিক টন ধান, ১৪ হাজার ৬৮৭ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ১৪ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন আতপ চাল ক্রয় করবে। অ্যাপসের মাধ্যমে ২২টি জেলা থেকে সরকারিভাবে ৮ লাখ মেট্রিক টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কিনবে যা মোট উৎপদানের অতি সামান্য, এতে ধানের দাম নিয়ন্ত্রণ হতে পারে না। বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় তিন মাস থমকে থাকার সুদূরপ্রসারী পরিণতি কী হতে পারে, সেই হিসাব অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা করছেন। তবে উন্নত ও বড় অর্থনীতির দেশগুলি অবস্থা যেন সংকটাপন্ন হয়ে না ওঠে, সে জন্য রাষ্ট্রগুলোর পক্ষ থেকে হুংকার এখন থেকেই উচ্চারিত হতে শোনা যাচ্ছে। সেই হুংকারের পেছনে আছে খাদ্যঘাটতি মোকাবিলায় তাদের নেওয়া পদক্ষেপ যেন কোনো অবস্থাতেই বিপদাপন্ন না হয় তা নিশ্চিত করে নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা। এ রকম বার্তাই বিশ্ব পেয়েছে বড় অর্থনীতির রাষ্ট্রসমূহের জোট জি-২০-এর কৃষি মন্ত্রীদের সদ্য শেষ হওয়া এক ভিডিও সম্মেলনে। তাই বর্তমান বিপর্যয়ের মধ্যেই কৃষিকাজ বা চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশে আগে যেমন কৃষকেরা বীজ উৎপাদন করতেন, এখন আর তা মূলত হয় না। বীজ কিনে চাষাবাদ করা হয়। বর্তমানে বীজ ঠিকমতো পাওয়া না যাওয়ায় বিপদ আরও বাড়বে। এমতাবস্থায় সম্ভাব্য মন্দা বা দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় এখনই কৃষক ও খামারীদের ফসল-পণ্য বিপননে সরাসরি সরকারী তত্ত্ববধান, চলতি মৌসুমে ফসল কেটে ঘরে তুলতে সরকারী তত্ত্ববধানে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, সরকারকে উৎপাদনের সিংহভাগ ধান হাটে-হাটে ক্রয় কেন্দ্র খুলে কৃষকের নিকট থেকে সরাসরি ক্রয় ও আগামী ফলনের জন্য বিনাসুদে ঋণ, বীজ, সার, সেচ ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থার আহ্বান জানান।