সাংবাদিক কাজলকে কারাগারে প্রেরণ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বেনাপোলে অবৈধ প্রবেশের অভিযোগে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হলে তাকে জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। পরে যশোর কোতয়ালি থানার পুলিশ ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে কারাগারে প্রেরণ করেছে। রোববার সকালে বেনাপোলের রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্য কাজলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে মামলা দিয়ে বেনাপোল থানায় সোপর্দ করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাজলকে যশোরের আদালতে পাঠানো হয়

বেনাপোল বন্দর থানার ওসি মামুন খান বলছেন, সাংবাদিক কাজলকে রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে আটক এবং অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে মামলা দিয়ে থানায় হস্তান্তর করে। ওই মামলায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়

যশোর আদালতের  (জিআরও) এএসআই সুবোধ ঘোষ  জানান, সাংবাদিক কাজলকে উল্লেখিত মামলায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। তাকে ওই মামলায় জামিন মঞ্জুর করা হয়।

আদালত সূত্র জানায়, কোতোয়ালী থানার এসআই পলাশ কুমারের আদালতের প্রেক্ষিতে তাকে ৫৪ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম কাজলের আইনজীবী বোরহান উদ্দিন জানান, দুই হাজার টাকার বন্ডে তার জামিন প্রার্থনা করলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।

কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, তার বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে তাদের কাছে খবর এসেছে। ফলে তাকে সন্দেহভাজন ভাবে আটক করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান বলেন, কাজলকে যশোর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যেহতেু সে ভারত ফেরত তাই তাকে বিশেষ একটি সেলে  রাখা হচ্ছে।

সাংবাদিক কাজল ১০ মার্চ সন্ধ্যায় ঢাকায় তার ‘পক্ষকাল’ অফিস থেকে বের হন। এরপর থেকে সন্ধান না পাওয়া যায়নি। ওই দিন সন্ধ্যায় কাজল যখন অফিসে ঢুকেছিলেন তখন রাস্তার পাশে রাখা তার মোটরসাইকেলের কাছে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা যায় ভিডিও ফুটেজে। পরদিন ১১ মার্চ চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসি নয়ন। ১৩ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শফিকুল ইসলাম কাজলকে সুস্থ অবস্থায় ফেরত দেওয়ার দাবি জানায় তার পরিবার। ১৮ মার্চ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে সাংবাদিক কাজলের সন্ধান চাওয়া হয়। ওই রাতেই কাজলকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ এনে চকবাজার থানায় মামলা করেন তার ছেলে মনোরম পলক। সাংবাদিক কাজল নিখোঁজ হওয়ার পর তার সন্ধানের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করেছেন তার সাংবাদিক সহকর্মী ও পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে আলোচিত লেখক, কবি ফরহাদ মজহার প্রায় একইভাবে নিখোঁজ অথবা অপহরণের শিকার হন। তাকেও নাটকীয়ভাবে যশোরের অভয়নগরে ঢাকাগামী একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।