যশোরের রায়পাড়ায় নারীর চুল কেটে নেয়ার অভিযোগ, অস্বীকার অপর নারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের চাঁচড়া এলাকার রওশন আরা (৪০) নামে এক নারীর জোর করে চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। করুনা বেগম নামে এক নারী ও তার মেয়েসহ আরও কয়েকজন একাজ করেছেন বলে মঙ্গলবার দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন রওশন আরা। এ সময় সাথে তার মা বিলকিস বেগম উপস্থিত ছিলেন।

তবে চুল কাটার বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন করুনা বেগম। তিনি বলেছেন, রওশন আরা’র কাছে বাড়ি ভাড়ার টাকা পাওনা রয়েছে। এনিয়ে শক্রতার কারনে এবং পাওনা টাকা না দেয়ার কৌশল হিসাবে সে এমন মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রওশন আরা বলেন, ‘গত ১ মে তারিখ সন্ধ্যা ৬ টায় দিকে বাড়ি ফেরার সময় করুনা বেগম ও তার মেয়ে রীনা খাতুনসহ কয়েকজন জোর করে করুনা বেগমের বাড়ি ধরে নিয়ে যায়। এরপর তারা মারধর করে তার চুল কেটে  দেয়। এরপর চাঁচড়া ফাঁড়ির পুলিশ ডেকে মাদক ব্যবসায়ী বলে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। তবে, থানার ওসি তদন্ত করে আমাকে ছেড়ে দেয়।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি আগে করুনা বেগমের বাড়িতে ভাড়া থাকতাম। করুনা বেগম তার বাড়িতে খারাপ মেয়েদের এনে দেহ ব্যবসা করতো। এটা জানতে পেরে আমি অন্য বাড়িতে চলে যাই। আমি ওই বাড়ি থেকে চলে আসার কিছুদিন পর করুনা বেগমের মেয়ে অশ্লীল অবস্থায় একজনের সাথে ধরা পড়ে। এতে করুনা মনে করে আমি এই খবর মানুষকে জানিয়েছি। কিন্তু আমি আসলে এ ব্যাপারে কাউকে কিছু জানাইনি। এই কারনে তারা আমাকে মারপিট করে আমার চুল কেটে দিয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে করুনা বেগম বলেন, ‘সে যা বলছে সব মিথ্যা। আমি বা আমার মেয়ে তার চুল কাটিনি। সে আমার বাড়ি ভাড়া থাকতো। তার কাছে আমি ভাড়ার ২২ হাজার টাকা পাবো। অথচ সে টাকা না দিয়ে উল্টো আমার বাড়ির অন্য দুই ভাড়াটিয়ার কাছে সুদে টাকা লাগাতো। তখন তার কাছে আমার পাওনা টাকা না দিয়ে সুদে টাকা খাটানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। এমনকি আমার মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে যেয়েও মেয়ের নামে কলঙ্ক ছড়াচ্ছে। এতে আমার মেয়ের সংসার ভাঙ্গার উপক্রম হয়েছে। আমি তার এমন ধরনের মানহানিকর কাজকর্মের বিচার চাই।

এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কয়েকদিন আগে রওশন আরা অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন, তখন তার সাথে করুনার পাওনা বাড়ি ভাড়া নিয়ে গোলযোগের বিষয়ে জানা যায়। তখন ওই মহিলা চুল কাটার বিষয়ে আমাদের কিছুই বলেনি। চুল কাটার বিষয় হলে আমাদের হালকাভাবে নেয়ার কোনো উপায় নেই। রওশন আরার নামে মাদক মামলা আছে। সে জামিনে আছে। তার চুল কাটার ঘটনা মেকিং হতে পারে বলে আমার ধারনা।

এ ছাড়া তিনি যে অভিযোগ দিয়েছিলেন তা লিখিত আকারে প্রত্যাহার করেও নিয়েছেন। এখন আবার সাংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগের হেতু কী তা বলতে পারবো না।’

অপরদিকে চাঁচড়া ফাঁড়ি পুলিশের এসআই সাহিদুল ইসলাম জানান, ‘রওশনারা, করুনা ও রেশমা জিহড়া এক সাথে চলাফেরা করতেন। মূলত একটি মোবাইল ফোন নিয়ে তাদের মধ্যে গোলাযোগ হয়। এ ঘটনার পর রওশনারা তাকে মারধর এবং চুল কেটে নেয়া হয়েছে বলে ২ মে কোতয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। যা তিনি তদন্ত করছিলেন। কিন্তু পরদিন ৩ মে রওশনারা আবার লিখিতভাবে ওই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। ফলে এখানে পুলিশের করার কিছুই নেই।’