‘সন্ত্রাসী চোর বিল্লালের মিস ফায়ারে গুলিবিদ্ধ হন শ্রমিক নেতা মিন্টু গাজী

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের বকচর হুশতলায় পরিবহন শ্রমিক নেতা মিন্টু গাজী গুলিবিদ্ধ হওয়ার নেপথ্যে ’মিস ফায়ার’। মূলত জুয়াখেলার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনার জেরে প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করতে গিয়ে নিজেই বিপদে পড়েন মিন্টু গাজী। এলাকাবাসী এবং পুলিশের সাথে কথা বলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রাথমিক তথ্য জানাগেছে।

তবে এই ঘটনায় মিন্টু গাজীর পরিবারে বা তার সংগঠনের পক্ষ থেকে পুলিশে কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি। কারণ মিন্টু গাজী নিজেই জানেন কার ছোড়া গুলিতে তিনি জখম হয়েছেন। তিনি বর্তমানে  খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পরিবহন সংস্থ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোর্তুজা হোসেন।

বকচর এলাকার একটি সূত্র জানিয়েছেন, ওই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী বিল্লাল ওরফে চোর বিল্লাল, সাইফুল, লিটন, লাল্টুসহ বেশ কয়েকজন একটি বাড়িতে বসে জুয়া খেলে। বিষয়টি জানতে পারে ওই এলাকার নয়ন নামে এক মাদক বিক্রেতা। সে মটর শ্রমিক ইমদাদুল হক ইমাদুলকে বিষয়টি জানায়। এবং গত শনিবার দুপুরে সাইফুলের তিনটি মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নিয়ে হুমকি দেয়। এই বিষয়টি সাইফুল লিখিত আকারে অভিযোগ দেন কোতয়ালি থানায়। অভিযোগটির তদন্তভার পড়ে কোতয়ালি থানার এসআই ফরিক ফেরদৌসের ওপর। তিনি ওই এলাকায় তদন্ত করতে যান এবং এমাদুলের সাথে কথা বলেন। ইমাদুল ও মিন্টু গাজী প্রস্তাব দেন যে-তারা নিজেরা উপস্থিত থেকে শালিস করে একটি লিখিত কপি কোতয়ালি থানায় জমা দিয়ে দেবেন। এই প্রস্তাব পেয়ে এসআই ফকির ফেরদৌস ফিরে আসেন।

সূত্রটি জানিয়েছে, শালিস করার আগেই নয়ন ও ইমাদুলকে শায়েস্তা করতে মতলব আটে বিল্লাল, সাইফুল, লাল্টুসহ সন্ত্রাসীরা। তারা সোমবার বিকেলে মারামারির উদ্দেশ্যে বকচর এলাকায় যায়। সেখানে গিয়ে মিন্টু গাজীর বাড়ির সামনে দেখা হয় ইমামদুলের সাথে। ওখানেই তারা তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। ইমাদুল সে সময় মাদক বিক্রেতা নয়নের পক্ষ নিলে চোর বিল্লালসহ ওই গ্রুপের সকলে ক্ষিপ্ত হয়। মিন্টু গাজীও চড়াও হন। সে সময় মিন্টু গাজী জোর করে ইমাদুলের হাত ধরে রাখে আর চোর বিল্লাল গুলিটি ছোড়ে। ওই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মিন্টু গাজীর পেটে লাগে। পরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, কোতয়ালি থানার একজন সহকারী উপপরিদর্শক ওই এলাকার মাদক বিক্রেতা নয়নের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে। তারই কল্যাণে নয়ন এক চেটিয়া মাদকদ্রব্য বিক্রি করে থাকে। সাইফুলের মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেয়ার বিষয়টি ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানেন। কিন্তু সেখনেও নয়নের পক্ষ নেন।

এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার এসআই ফকির ফেরদৌস জানিয়েছেন, ‘একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে বকচর হুশতলায় গিয়েছিলাম রোববার। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা হয় শ্রমিক নেতা মিন্টু গাজী এবং ইমাদুলের সাথে। তারা বিষয়টি মিটিয়ে দেয়ার দায়িত্ব নেন। এবং শালিস নামা থানায় জমা দেয়ার দায়িত্ব নেন। সে কারণে অভিযুক্তদের না ধরে থানায় চলে আসি এবং ওসি সাহেবকে জানায়। কিন্তু পরদিনই গুলির ঘটনা ঘটে।’

কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ তাসমীম আলম জানিয়েছেন, ‘এখনও পর্যন্ত গুলির ঘটনায় থানায় কোনো পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়নি। কোনো পক্ষ অভিযোগ না করলে পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা হতে পারে।’