কয়রায় লবণাক্ত জমিতে বাদাম চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষিদের


কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:
উপকূলীয় এলাকা খুলনার কয়রা উপজেলায় লবণাক্ত জমিতে বাদাম চাষ করে লাভবান হওয়ায় আগামীতে কৃষকদের মাঝে আগ্রহ বাড়ছে। কারণ চলতি বছরে এ উপজেলায় সামান্য কিছু জমিতে চিনা বাদামের চাষ করে কম খরচে লাভের মুখ দেখায় চিনা বাদাম চাষে এগিয়ে এসেছেন অনেক কৃষক। কয়রা সরেজমিন গবেষণা বিভাগ পরীক্ষামূলকভাবে পরপর দুই বছর বাদাম চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে বাম্পার ফলন ফলাতে পেরেছন। সূত্র জানায় বিগত ২০১৯ সালে বাদাম চাষ লবণাক্ত জমিতে পরিক্ষামূলকভাবে দুই জন কৃষকের মাধ্যমে সরেজমিন কৃষি গবেষণা বিভাগ বাদাম চাষ করে আশানুরুপ ফলন উৎপাদন হয়। অতঃপর চলতি বছরের শুরুতেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ৬ জন কৃষককে উদ্বুদ্ধ করে ১০ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ শুরু করেন এবং সম্প্রতি মাঠ থেকে বাদাম তোলা শুরু হলে বিঘা প্রতি ৬ মন বাদাম উৎপাদন দেখা যায় । যে কারনে উপজেলার অনেক এলাকার কৃষকরা আগামীতে বাদামের চাষ করার আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ বিষয় উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের জালালি পাড়ার বাদাম চাষী রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বললে, তিনি তার আমন ধান কাটা শেষে পরিত্যাক্ত জমিতে প্রথমবার ৬০ শতক জমিতে চাষ করে প্রায় ১০ মন বাদাম পেয়ে খুশির কথা জানান। অনুরুপ অনেকে বাদাম চাষী সামান্য খরচে বাদাম চাষ করে লাভের আশা করছেন, কেননা তারা অনেকেই মাঠ থেকে বাদাম তোলা শেষ করেনি। এছাড়া এসব বাদাম চাষীরা অনেকেই জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সরেজমিন গবেষণা বিভাগ আমাদের কে বাদাম চাষের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং ভাল বীজ, সার কটিনাশক সরবরাহ করার আশ্বাস দেয়ায় আমরা প্রথমবার চাষ করে লাভের মুখ দেখেছি। তবে এম্বলেটি সাইট কয়রার বৈজ্ঞানিক সহকারী জাহিদ হাসান এ বিষয় বলেন, আমরা এ বছর কৃষকদের মাঝে ৩ টি জাত দিয়েছিলাম বারী চিনা বাদাম ৮, ৯ ও স্থানীয় জাত। স্থানীয় জাত ভাল গজায়নি কিন্তু আমাদের গবেষণা ২ টি জাত বারি চিনাবাদাম ৮ ও ৯ খুবই ভাল ফলন হয়েছে। জানা গেছে কয়রার কৃতি সন্তান খুলনার সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনর রশীদ আইলা পরবর্তী বিগত ৪ বছর ধরে উপকূলীয় এলাকা খুলনার কয়রা উপজেলার মাটিতে শুধু বাদম নয় ধান,তরমুজ, মুগডাল, সরিসা, ভুট্্রা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে কয়রায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধিন্যস্ত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সরেজমিন গবেষণা বিভাগের আওতাধীন এমএলটি সাইট কয়রা নামে একটি নতুন অফিস করেন। তিনি পরীক্ষামূলকভাবে এসব ফসল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে বিভিন্ন সময় দেশি ও বিদেশী কৃষি বিশেষজ্ঞদের কয়রায় এনে মাটি পানি এবং ফসলের মাঠ পরিক্ষা করেছেন। ফলে চলতি শীত মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এসব ফসলের আবাদ করে কৃষকরা লাভবান হয়েছে।
এ বিষয় খুলনার সরেজমিন গবেষণা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনর রশীদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত ১০ টি বাদামের জাত আবিস্কার করেছে। ১৯৭৬ সালে মুক্তায়িত প্রথম জাত ঢাকা-১ যার ফলন প্রতি হেক্টরে ১.৫-২.০ টন্ কিন্তু বারি বাদাম -৮, ৯ ও ১০ লেটেষ্ট হওয়ায় এর ফলন ৫০০-৮০০ কেজি বেশি। এ জাত গুলো চাষ করলে কৃষক বেশি লাভবান হবেন। তিনি আরও বলেন, চিনা বাদাম একটি অর্থকরী ফসল। এটি একটি উৎকৃষ্ট ভোজ্য তৈলবীজ। সব বয়সের মানুষের জন্য চিনা বাদাম স্বাস্থ্য সম্মত খাবার। শখ করে কখন কখন হয়তো খাওয়া হয় তবে এর উপকারিতা সম্পর্কে জানলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এই বাদাম রাখতে চাইবেন। শরিরের মাত্রাধিক কোলেস্টেরল হ্নদ রোগ, উচ্চ রক্ত চাপ, ওজন বৃদ্ধি, ও ডায়বেটিস এর মতো কঠিন রোগ প্রতিরোধ সৃষ্টি করে। বাদামের অসাধারণ কার্যকরি ফ্যাট শরীরে কোলেস্টরল কমাতে সাহায্য করে । তাছাড়া এই বাদামে চর্বিও কমাতে সাহায়্য করে। রাতে ১০- ১৫ টি বাদাম বাদাম পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে। চিনা বাদামে প্রচুর পরিমাণে বি৩ আছে যা মস্তিস্কের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। শরিরে সঠিক পরিমাণ পুষ্টি না থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। চিনা বাদামে আ্যান্টি- অক্সিডেন্ট শরিরে রোগকে বাসা বাধতে বাঁধা দান করে। তাই প্রতিদিন দিন চিনা বাদাম খেয়ে শরিরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান।