হারভেস্টার মেশিনে বিনামূল্যে ধান কেটে দিচ্ছেন নড়াইলের যুবলীগ নেতা


ফরহাদ খান, নড়াইল
হারভেস্টার মেশিনে বিনামূল্যে গরিব কৃষকের বোরো ধান কেটে দিলেন নড়াইল জেলা যুবলীগের আহবায়ক ওয়াহিদুজ্জামান। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরে পাশে মাছিমদিয়া বিলে ধানকাটার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার)।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট অচিন চক্রবর্ত্তী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক, নড়াইল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসানুজ্জামান, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এনামুল কবির টুকু, সাধারণ সম্পাদক শামীমূল ইসলাম টুলু, জেলা যুবলীগের আহবায়ক ওয়াহিদুজ্জামান, সদর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিল্পী মিনা, লোহাগড়া যুবলীগের আহবায়ক সদরুদ্দিন শামীম, নড়াগাতি থানা যুবলীগের আহবায়ক হাদিউজ্জামান, কালিয়া যুবলীগের আহবায়ক খান রবিউল ইসলাম, যুবলীগ নেতা সৈয়দ শরিফুল ইসলাম নান্তু, হারভেস্টার মেশিন মালিক আনিচুজ্জামান প্রমুখ।
নড়াইল জেলা যুবলীগের আহবায়ক ওয়াহিদুজ্জামান জানান, উদ্বোধনী দিনে মাছিমদিয়ার আলাই মোল্যার দুই একর জমির ধান বিনামূল্যে কেটে দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য গরিব কৃষক ও বর্ষাচাষির ধানও বিনামূল্যে কেটে দেয়া হবে। আর সামর্থ্যবান কৃষকদের ধান ন্যায্যমূল্যে কেটে দেয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৫০% ভর্তুকির মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টাকায় মেশিনটি কিনেছেন ওয়াহিদুজ্জামানের ভাই নড়াইলের মাছিমদিয়ার আনিচুজ্জামান। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল নড়াইলের হবখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম চঞ্চল একই মূল্যে আরেকটি হারভেস্টার মেশিন কেনেন।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাস জানান, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় একরপ্রতি ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা খরচ হলেও এ মেশিন দিয়ে ধানকাটাসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একরপ্রতি খরচ হবে প্রায় ৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। আর এক একর জমির ধান কাটতে সময় লাগছে একঘণ্টা। এছাড়া ঘণ্টায় তেল খরচ ৬ থেকে ৭ লিটার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপপরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, জেলায় ছয়টি হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ হয়েছে। নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ধানকাটা মেশিন পেয়েছি। ছয়টি মেশিনের মধ্যে সদরে চারটি এবং লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলায় একটি করে মেশিন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এ মেশিন ধানকাটা, ঝাড়া ও প্যাকেজিংয়ের কাজ সম্পন্ন করবে। বিভিন্ন কোম্পানি ভেদে প্রতিটি মেশিনের দাম ২৮ থেকে ৪০ লাখ টাকা। এছাড়া শুধুমাত্র ধান কাটতে পারে এমন ১০টি রিপার মেশিন আমরা বরাদ্দ পেয়েছি। এ মেশিন শুধু নড়াইল নয়, সারাদেশেই বরাদ্দ দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগময় মুহূর্তে এই মেশিনসহ কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।