পুলিশের পিটুনিতে যশোর বড় বাজারের দু’ব্যবসায়ী আহতের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাজার তদারকির নামে যশোর বড় বাজারের ব্যবসায়ীদের পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে যশোর সদর ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার দুপুরে বড়বাজারের হাটখোলা রোডের কয়েকজন ব্যবসায়ী এই অভিযোগ করেন।
তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, ফাঁড়ির ইনাচর্জ পরিদর্শক তুষার কুমার মন্ডল। তিনি বলেছেন, সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে মানুষজন কেনাকাটা করছে। আর দোকানদাররা দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে মালামাল কেনাবেচা করছে। সে সময় পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় কেই হয়তো আহত হতে পারে। পুলিশ কাউকে আঘাত করেনি।
বাজারের হাটখোলা রোডের (হোটেল সিটি)’র জয়নাল সুপার মাকের্টের নৈশ প্রহরী আকরাম হোসেন জানান, তিনি শহরের বারান্দীপাড়া কদমতলায় বসবাস করেন। বড় বাজারের হাটখোলা রোডের জয়নাল মার্কেটে সাইদ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার। বর্তমান করোনা রোগের সংকটকালিন সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ি নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছেন। কিন্তু নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালনের জন্য প্রতিদিন তাকে ওই মার্কেটে আসতে এবং থাকতে হয়। বেশ কয়েকটি মুদি দোকানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের গোডাউন রয়েছে ওই মার্কেটে। দুপুর ২টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার সুযোগ হওয়ায় মুদি ব্যবসায়ীরা গোডাউন থেকে মালামাল বের করে দেন। শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে আকরাম হোসেন মার্কেটের ভিতরে ছিলেন। এ সময় সদর ফাঁড়ি পুলিশ সেখানে এসে মানুষজনকে পিটিয়ে আহত করেছেন। কাছে গিয়ে মারার কারণ জানতে চাইলে জয়নাল মার্কেটের মালিক আমির হোসেন রাজুকেও মারপিট করা হয়।
এরপরই পাশে মাতৃ স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী শংকর কুমার পালকেও পিটিয়ে আহত করেন পুলিশ সদস্যরা। পরে আহতরা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সূত্রে আরো জানা গেছে, সপ্তাহ খানেক আগে ওই পুলিশ অফিসার আকরাম হোসেনকে ওই মার্কেটের মধ্যে ফেলে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করেন। শুক্রবার পুলিশের ভয়ে আকরাম হোসেন মার্কেটের দ্বিতীয়তলায় গিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পালিয়েও রেহাই পাননি আকরাম হোসেন। পুলিশ অফিসার দ্বিতীয়তলায় গিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করেন। এ সময় দ্বিতীয় তলায় থাকা একটি ঘরে বেশ কিছু বিস্কুট পা দিয়ে মাড়িয়ে গুড়ো করে নষ্ট করে ফেলেন।
একই এলাকার বেশ কিছু ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ওই এলাকার দোকান মালিকরা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেই চলেছেন। তারা দোকান বন্ধ করে দিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। খরিদ্দার এলে দোকান খুলে দিয়ে মালামাল দিয়ে থাকেন। এতে সরকারি নির্দেশনা অমান্য হচ্ছে বলে পুলিশ তদারিক করতে যায়। পুলিশ গেলেই দোকানদাররা সরে যায়। ফলে পুলিশ বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর পুলিশ ফাঁিড়র ইনচার্জ তুষার কুমার মন্ডল আরো জানিয়েছেন, ‘প্রতিদিন পুলিশ গিয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দিয়ে আসে। অনেক ব্যবসায়ী নিজে উদ্যোগি হয়ে দোকান বন্ধ করেন না। ফলে সরকারি নির্দেশনা পালন করতে হয় তাকে। পুলিশ দেখলে হুড়োহুড়ি শুরু হয় বাজারে। পুলিশ বড়জোর ভয় দেখাতে মারমুখি হয়। কাউকে আঘাত করেনি।’