যবিপ্রবি ল্যাবে ঢাকা থেকে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান পাঠানোর আশ্বাস স্বাস্থ্য সচিবের


নিজস্ব প্রতিবেদক:
করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে যশোর জেলা সমন্বয় কমিটির সভা শুক্রবার সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেউ কেউ যবিপ্রবি জেনোম সেন্টারে নমুনা পরীক্ষার হেরফেরের প্রশ্ন তুলে তা বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করেন। এসময় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য যবিপ্রবি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা বন্ধ নয়, যদি কোনো সমস্যা থেকে থাকে তা সমাধানের পথ বের করার আহবান জানান। তিনি স্বাস্থ্য সচিবকে একটি অভিজ্ঞ দল যশোরে পাঠানোর অনুরোধ করেন।
এ প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (সেবা) বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ল্যাবে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য ঢাকা থেকে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান পাঠানোর আশ^াস দেন। সেই সাথে সচিবের কাছে যশোরে আইসিইউ ও ডায়ালসিস সেন্টার চালুর বিষয়ে প্রস্তাব করা হলে তা চালু করা হবে বলে তিনি আশ^স্ত করেছেন বলে জানান যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায়।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য,বিভাগীয় কমিশনার ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলীপ কুমার রায়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান, সিভিল সার্জন ডাক্তার আবু শাহীন, ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৩৭ বীরের অধিনায়ক লে.কর্নেল নেয়ামুল হালিম খান,প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকনু। এসময় কুইন্স,ইবনে সিনা ও জেনেসিস হাসপাতালের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আরো বলা হয় যেহেতু ১০ মে রোববার থেকে মার্কেট খুলে যাচ্ছে। মার্কেটে মানুষ যাতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করে এজন্য পুলিশকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সমন্বয় কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ জানান, ‘স্বাস্থ্য সচিব মহোদয় এই অঞ্চল সফর করছেন। তিনি যশোরে আসলে তার সঙ্গে মতবিনিময়সভা করা হয়। সেই কারণে এই সভায় কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।’
তিনি আরো জানান, যবিপ্রবির টেস্ট নিয়ে কথা উঠেছে। সেখানে বেশি পজেটিভ রেজাল্ট আসছে বলে সভায় কেউ কেউ বলেছেন। বিষয়টি স্বাস্থ্য সচিব শুনেছেন। হয়তো তিনি একটি এক্সপার্ট টিম পাঠাবেন বিষয়টি খতিয়ে দেখতে।
ঢাকা থেকে এক্সপার্ট পাঠানোর বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার কোনো আপত্তি নেই। আগেই বলেছি আমাদের পরীক্ষা সম্বন্ধে আমি খুবই কনফিডেন্ট।’
তিনি বলেন, ‘আমরা গবেষণা করি। রোগ নির্ণয় করা আমাদের কাজ না। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আমরা স্বেচ্ছাসেবা দিচ্ছি। নমুনা পাঠানো বন্ধ করে দিলেই তো আমাদের ল্যাবে আর কোভিড-১৯ নির্ণয়ের কাজ হবে না।’
সভায় স্বাস্থ্য সচিব যশোরে করোনা পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করা হচ্ছে এবং সমস্যা কোথায় কোথায়, তা জানতে চান। স্থানীয় কর্মকর্তারা তাকে জানান, বেনাপোল ইমিগ্রেশন হয়ে ভারত থেকে অনেক বাংলাদেশি দেশে আসছেন। তাদের প্রায় সবাইকে ঝিকরগাছার গাজীর দরগায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। এতো মানুষকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন করা কঠিন। যাদের মধ্যে করোনার কোনো লক্ষণ নেই, তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো যায় কি-না, সেই বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
এ ছাড়া যশোর জেনারেল হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) চালু, যশোর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করা, বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রণোদনার আওতায় আনার বিষয়গুলো স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা তুলে ধরেন সচিবের কাছে।
সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, স্বাস্থ্য সচিব বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে শুনেছেন।