যশোর ঈদগাহ ময়দানে কাঁচা বাজার, ঈদের প্রধান জামাত নিয়ে সংশয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনা ভাইরাস সংক্রমনের এই দুঃসময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে জুম্মা   ও তারাবির নামাজ পড়ার অনুমতি পেলেও ঈদের জামাত নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয় ও দুশ্চিন্তা। প্রতি বছর যশোরে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। বিগত কয়েক বছর ধরে পৌর মেয়রের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বর্ষাকালেও এই ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে জেলার সর্ববৃহৎ ঈদ জামাত। এতে অংশ নিয়ে থাকেন জেলা প্রশাসনের পদস্থকর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষনেতৃবৃন্দসহ কয়েক হাজার মুসল্লি। কিন্তু বর্তমানে জেলার প্রধান এই ময়দানে অস্থায়ীভাবে বসানো হয়েছে কাঁচা বাজার। আর টাউন হল ময়দানে বিকিকিনি হচ্ছে মাছ। ফলে কোথায় হবে ঈদ জামাত  আবার আদেও জামাত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ সংশয় থেকেই যাচ্ছে। করোনার দাপটের কারণে এবার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেখানে পবিত্র হারাম শরিফ ও মদিনার মসজিদে নববীতে জামাত সীমিত করা হয়েছে সেখানে বাংলাদেশে ঈদ জামাতের কি হবে তা নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। বাংলাদেশে কোভিড-১৯ থেকে মানুষের জীবন রক্ষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি অধিকাংশ দপ্তর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জারি করা হয়েছে লকডাউন। এছাড়াও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে ঘোষণা করা হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি। ফলে সবখানে এখন সামাজিক দূরত্ব মানতেই হচ্ছে। যে কারনে জামাত নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে ঈদগাহ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ বলেন, ঈদগাহ ময়দানে নামাজের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা উপর থেকে আসেনি। তবে দ্রুতই সব জানা যাবে এবং ঈদগাহ কমিটির সভা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে । এই সংবাদ সকলকে জানানো হবে। পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, বিগত দিনের মতো ঈদগাহের জন্যে প্রস্তুতি না নিতে পারার বেদনা আছে। তিনি জানান পরিচালনা কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

বিগত দিনের মতো পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করার লক্ষে যশোরের ঈদগাহ প্রস্তুতি এখনো চোখে পড়ছেনা। কোথাও সংস্কার ও সাজগোজের ব্যবস্থা নেই। কেন্দ্রীয়  ঈদগাহ ময়দান ছাড়াও শহরের কারবালা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দুইদফা, রেলস্টেশন চত্বরে, উপশহর মার্কাস জামে মসজিদে, পুলিশ লাইন মসজিদে, চৌরাস্তা জামে মসজিদে, বিএড কলেজ মাঠে, যশোর কারাগার প্যারেড গ্রাউন্ডে, শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহসহ পৌরশহরে প্রায় অর্ধশত স্থানে ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তবে ঈদের দিন  আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে স্ব স্ব এলাকার জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এবার কি হবে তা নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না।