মামলা হলেও আটক হয়নি বনবিভাগের তিন কর্মকর্তা

 

মোঃ এরশাদ হোসেন রনি, মোংলা :   সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের অধীন চরাপুটিয়ার বিজবিজিয়ার খাল এলাকায় চার জেলেকে মারপিট এবং রক্তাক্ত জখম করায় তিন বন কর্মর্তার নামে শরণখোলা থানায় মামলা করেছেন মোংলার মিঠাখালী গ্রামের শেখ সোহরাব হোসেন। মামলার আসামিরা হলেন সুন্দরবনের ধানসাগর ষ্টেশনের ফরেস্টার মিজানুর রহমান (৪৫), তাম্বুলবুনিয়া টহল ফাঁড়ির আবুল বাশার (৩৮) এবং মোঃ মোতালেব হোসেন (৪০)।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৩ জানুয়ারি পৌনে ১২টায় সময় দুই নৌকায় চার জেলে বৈধভাবে চরাপুটিয়ার বিজবিজিয়ার খালে মাছ ধরতে যায়।  চার জেলে হচ্ছেন, মোংলার বাঁশতলা গ্রামের হানিফ মোছাল্লী, হামিদ মোছাল্লী, আসাদ মোছাল্লী ও আতিয়ার মোছাল্লী।  বিজবিজিয়ার খালে জেলেরা পৌছানো মাত্র ফরেস্টার মিজানুর রহমান এবং আবুল বাশার জেলে আসাদের বাম পায়ে সুন্দরী গাছের লাঠি দিয়ে উপর্যপুরি আঘাত করে। অন্যদিকে ফরেস্টার মোতালেব হোসেন জেলে হামিদ মোছাল্লীকে খুন করার উদ্দ্যেশ্যে রামদা দিয়ে পিঠে কোপ দেয়।

জানা যায়, ফরেস্টাররা জেলেদে কাছে ১লাখ টাকার চাঁদা দাবি করে । ঘুষের টাকা না পেয়ে জেলেদের নৌকা দুটি তলিয়ে দেয়। পরবর্তীতে জেলে হানিফ মোছাল্লীর কাছে থাকা ৫ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে ফরেস্টাররা গ্রহণ করেন। এঘটনায় জেলেদের নিকট আত্মীয় মোংলার মিঠাখালী গ্রামের শেখ সোহরাব হোসেন শরণখোলা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার বাদী সোহরাব হোসেন জানান, আসামিদের গ্রেফতারের পুলিশ ব্যাপারে গড়িমসি করছে।  তিনি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দারি করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই স্বপন কুমার সরকার জানান, মামলার তদন্ত কাজে এখনো ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। অনুমতি সাপেক্ষে স্কট নিয়ে ২/১ দিনের মধ্যে ঘটনাস্থলে যাবো। সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করতে হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাতে হয়।

বনকর্মকর্তাদের নামে মামলার বিষয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা  বেলায়েত হোসেন জানান, জেলেদের জালে হরিণ শিকারের ফাঁদ এবং বরফ পা্ওয়া গেছে। এমতবস্থায় তাদের নৌকা থামাতে বলা হয়েছিলো, তা তারা অমান্য করে বরং ফরেস্টারদের উপর হামলা চালায়। জেলেদের নামে গত ১৭ জানুয়ারি বন আইনে মামলা হয়েছে। বন বিভাগের সাথে আপোষ-সমঝোতায় ব্যর্থ হয়ে কৌশল হিসেবে তারা নাটক সাজিয়ে ফরেস্টারদের নামে কাউন্টার মামলা করেছে।