দোলাচলে মাছ ব্যবসায়ীরা, গুটিয়ে নিলো যশোর টাউন হল মাঠের ব্যবসা

মিরাজুল কবীর টিটো : দোলাচলে পড়েছেন যশোর বড় বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা। কি করবেন না করবেন তা ভেবে ব্যাকুল তারা। শেষ পর্যন্ত তাদের ঠাঁই কোথায় হবে তা নিয়ে সংশয়ে পড়েছেন। এ অবস্থার মধ্যে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে তারা ব্যবসা গুটিয়ে দিয়েছেন যশোর টাউন হল ময়দান থেকে। গতকাল এখানে মাছ বাজার বন্ধ ছিল। হঠাৎ করে বাজার বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ মাছ কিনতে এসে ফিরে গেছে। তবে শহরের রেলস্টেশন,চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড ও উপশহর বাবলা তলা মাছ বাজারে ছিল ক্রেতাদের ভিড় । এদিকে, ঈদগাহ ময়দানের কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীরাও নানা সংকটে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখানেও বেশিদিন টিকবে না বলে অনেকে জানিয়েছেন।

বড় বাজার কমিটি সভাপতি মীর মোশারেফ হোসেন বাবু জানান টাউন হল মাঠে মাছ ব্যবসায়ী আর ব্যবসা করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছে। কারন তারা রোদে পুড়ে মাছ নষ্ট করে ও টাকা লোকসান দেয়াসহ নানা সমস্যার কারনে ব্যবসা করতে আসছেন না মাছ ব্যবসায়ীরা। তবে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান মাছ বাজার বন্ধ করার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা কিছু জানাননি।

যশোর জেলায় করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাব বেড়ে গেলে যশোর জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা থেকে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে বড় বাজারের সবজি বাজার ও মাছ বাজার সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ১৫ এপ্রিল কাঁচা বাজার লোন অফিস পাড়ায় ও ২৪ এপ্রিল মাছ বাজার খালধার রোডে স্থানান্তর করা হয়। তারপর ও সেখানে মানুষ সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে বাজার করছিল। এ কারণে ৩০ এপ্রিল ঈদগাহ মাঠে কাঁচা বাজার ও টাউন হল মাঠে মাছ বাজার বসানো হয়েছে। কিন্তু নানা সমস্যার কারনে ১২ মে মঙ্গলবার থেকে মাছ ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করা বন্ধ  করে দিয়েছে। তারা এখানে আর মাছ বিক্রি করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেক  ব্যবসায়ী তাদের জিনিসপত্র মাঠ থেকে নিয়ে গেছে। মাছ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ বৃষ্টি হলে টাউন মাঠে অনেক কাঁদা হয়। সেই সাথে অতিরিক্ত রোদ পড়ায় ক্রেতা মাছ কিনতে আসতে চান না। ক্রেতা না থাকায় টাকা দিয়ে মাছ কিনে এনে বিক্রি করতে না পেরে লোকসান হচ্ছে। মাঠে মাছ এনে বিক্রি করতে গেলে রোদের কারণে মাছ তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে গন্ধ বের হচ্ছে। ফলে মাছ বিক্রির পরিবর্তে ফেলে দিতে হচ্ছে। মাছ বাজারের সভাপতি কৃষ্ণ পদ বিশ^াস জানান টাউন হল মাঠে ব্যবসা করতে এসে পড়েছি অনেক সমস্যায়। এখানে কোনো বৈদ্যুতিক লাইন নেই। এ মাঠে প্রচণ্ড রোদের কারণে গরমে ব্যবসায়ীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এভাবে ব্যবসা করতে থাকলে ব্যবসায়ীদের জীবন বাঁচানো কষ্ট কর হয়ে পড়েছে। সেই সাথে প্রচণ্ড গরমে এক দুইদিনে মাছে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বেশি টাকা দিয়ে বরফ কিনে এনে মাছ রাখলে তাড়াতাড়ি বরফ গলে যাওয়ায় মাছ রক্ষা করা যাচ্ছেনা। আবার ভ্যানে করে বাড়িতে বাড়িতে  গিয়ে মাছ বিক্রি করাই টাউন হল মাঠে এসে মাছ কেনার ক্রেতা কমে গেছে। এ মাঠে নাইট গার্ড না থাকায় মাছ চুরি হয়ে যাচ্ছে। এতে করে মাছ ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। এ কারনে টাউন হল মাঠের মাছ ব্যবসায়ীরা নানা সমস্যার কারণে দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন। তারা এ মাঠ আর মাছ ব্যবসা করবে না।

যশোরের পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু জানান, করোনা ভাইরাস থেকে মানুষের সুরক্ষার জন্য টাউন হল  মাঠ মাছ বাজার ও ঈদগাহ মাঠে কাঁচা বাজার বসানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার পর এটা করা হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা হঠাৎ করে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে পারেন না। তাদের সমস্যার কথা জেলা প্রশাসন ও পৌরসভায় জানাবেন। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কারণ ব্যবসার চেয়ে মানুষের জীবন আগে।