যশোরে আদালতের আদেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর তৈরির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর সদরের হাশিমপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। করোনার কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে সাইফুল ইসলাম এ কাজ করছেন বলে অভিযোগে মামলার বাদী একই গ্রামের আসলাম হোসেন জানিয়েছেন।

সাইফুল ইসলাম ঘর তৈরির কথা স্বীকার করে বলেন, আমি ভূমিহীন মানুষ। পরের জায়গায় ঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছিলাম। বর্তমানে জমির মালিক নিজে ঘর তৈরি করায় ওই জায়গা বিক্রি করলে আমি ক্রয় করে বসবাসের জন্য অস্থায়ী ঘর বনিয়েছি। আদালত ঘর সরাতে নির্দেশ দিলে আমি ঘর সরিয়ে নেবো।

অভিযোগে জানা গেছে, যশোর সদরের হাশিমপুর মৌজায় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত আসলাম হোসেনের ৭১৮ দাগের ৪০ শতক জমির মধ্যে তিন বোন ৬ শতক জমির মালিক। ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর একই গ্রামের সাইফুল হোসেন ও আবু মুছা ওই জমির মধ্যে থেকে তিন বোনের কাছ থেকে ৬ শতক জমি কিনেছে বলে আলাদা করে দিতে বলেন। এসময় আসলাম হোসেনকে জমি বিক্রির কথা কেন তাকে জানানো হয়নি এবং তার বোনের জমি তিনি কিনতে চান বলে  সাইফুল ও আবু মুছাকে জানান। সাইফুল ইসলাম  ও তার ভাই এ জমি ফেরত দিতে অস্বীকার করে। এরপর আসলাম হোসেন জমির কাগজপত্র তুলে যশোর জজ আদালতে হকসেফা মামলা করেন। যার নম্বর ২৫০/২০১৮। এরপর নোটিশ পেয়ে সাইফুল ইসলাম ও তার ভাই আদালতে উপস্থিত হয়নি। একপর্যায়ে আদালতের নির্দেশে একজন কমিশনার নিয়োগ দিয়ে আদালত জমির অবস্থান সম্পর্কে অবগত হয়। এরপর আদালত এক আদেশে এ জমির স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেয়। এ আদেশ অমান্য করে সাইফুল ইসলাম বিরোধপূর্ণ জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। আসলাম হোসেন আদালতে আবেদন করে বিষয়টি অবগত করেন। আদালতের আদেশে আবারও একজন কমিশনার নিয়োগ দিয়ে তদন্ত রিপোর্টে আবেদনের সত্যতা পায়। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন আছে।

জমি নিয়ে বিরোধের জের জের ধরে সাইফুল ইসলাম ও তার লোকজন আসলম হোসেনকে গত বছর মারপিট করে জখম করেছিল। এ ব্যাপারে একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

আসলাম হোসেন জানিয়েছেন, আদালত বন্ধ থাকার সুযোগে সাইফুল ইসলাম ওই জমিতে নির্মাণাধীন ভবনের কলামের উপর টিনের চাল দিয়ে ঘর তৈরি করছেন। বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগে দেয়া হয়েছে। তদন্তও হয়েছে তবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তিনি অবিলম্বে বিচারধীন জমির দখল মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।