শরণখোলায় ছেলের তারকাটায় অবরুদ্ব মা!

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রতিয়া রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃতঃ-জগদীশ চন্দ্র হালদারের ছেলে ওমান প্রবাসী নারায়ন চন্দ্র হালদারের (৩৮) স্ত্রী সুপ্রিয়া রানী শাশুড়ি ময়না রানীকে (৬৫) অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষকের ইশারায় এ  কাজ করছেন বলে অভিযোগ বৃদ্ধ মা ময়না রানীর।

তিনি বলেন, দিন মজুর স্বামীর ঘরে থেকে নানা প্রতিকুলতার মধ্যে ৪টি সন্তানকে আমি অনেক কষ্টে বড় করেছি। আজ মেজ ছেলে অনেক পয়সা ওয়ালা হওয়ায় আমার নাম পর্যন্ত শুনতে পারে না। কোনো দিন ফোন করে বলে না  মা তুমি কেমন আছ ?  বৌ এবং প্রতিবেশি এক স্কুল মাষ্টার এখন নারায়নের সব। তাদের কথা শুনলেও আমার কোনো কথা শোনে না এক সময়ের  ছোট্র নারায়ন। দশ বছর পুর্বে আমার স্বামী মারা যায়। তার রেখে যাওয়া বসত ভিটা ভাগ করে ছেলেরা যে যার মতো  এখন আলাদা। বড় ছেলে গঙ্গাচরন ও মেজ ছেলে নারায়ন দীর্ঘ দিন ধরে কোনো খোঁজ-খবর না নেয়ায় ছোট ছেলে দিন মজুর বাসুদেবের  ঘরে আছি। এখন আমি মরে গেলে হয়তো ওরা শান্তি পাবে। মনের ভুলেও নারায়নের ঘরে যাই না। কিন্তু কয়েক মাস আগে নারায়ন বিদেশ থেকে বাড়িতে আসে তখনও মেজ খোকা আমাকে ডাকেনি। লোক মুখে শুনেছি বিদেশ থেকে কতো জনের জন্য কতকিছুই নিয়ে এসেছেন আমার বাবা  কিন্তু তাতে আমি কোনো কষ্ট পাইনি। ঠাকুরের কাছে সব সময় প্রার্থনা করি বিদেশের মাটিতে আমার খোকা যেন ভালো থাকে। তবে, দেশে আশার কিছু দিন পর তুচ্ছ ঘটনায় ছোট খোকা বাসুদেব ও নারায়নের মধ্যে মারামারি হয়। এতে নারায়ন তার স্ত্রী সুপ্রিয়া রানীর গর্ভের সন্তান নষ্টের মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে শরণখোলা থানায় বাসুদেব (৩২) ও তার স্ত্রী মনিকা রানী (২৮) কে আসামি করে একটি মামলা করেন। সম্প্রতি ওরা জামিনে আসলে প্রবাসে থাকা নারায়নের নির্দেশে ছোট বৌ সুপ্রিয়া রানী আমাকে সহ বাসুদেবদের বাড়ী থেকে বাহিরে বের হওয়ার পথে কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে আটকে দেয়। গত ১৫ দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। বিষয়টি থানা পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ গণ্যমান্যদের জানালেও কেউ নারায়নের বিরুদ্ধে কথা বলেনি। এছাড়া বাসুদেবের স্ত্রী মনিকা রানী বলেন, সামান্য বিষয়ে নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ হওয়ার পর আমার স্বামী মেজ-দাদার পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়েও রেহাই পাননি। টাকার জোরে আমাদের বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা মামলা করেছেন। এমনকি এবার বিদেশ যাওয়ার আগ মুহূর্তে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাট আদালতে আমাদের বিরুদ্ধে আরো একটি মিথ্যা মামলা করে গেছেন। জামিন নিয়ে আমরা বাড়িতে আসলে তার নির্দেশে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, থানায় কোনো মামলা হবে না, বলে তৎকালীন সময়ে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য পুলিশকে দেয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে দশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু মামলা হওয়ার পর ঘর-বাড়ি ফেলে আমরা স্বামী-স্ত্রী চার মাস পালিয়ে থাকি। কিছুদিন হয়েছে জামিন নিয়েছি। তবে এ পর্যন্ত একটি  টাকাও  উদ্ধার করতে পারিনি ওই প্রতারকের কাছ থেকে। এ বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ কবির হোসেন তালুকদার বলেন, যে মায়ের যাতায়াতের পথ  বন্ধ করতে পারে, সে সন্তান নামের কলঙ্ক। তবে, এ বিষয়টি নিয়ে আমিও মীমাংসার চেষ্টা করেছি কিন্তু নারায়নের কাছে পরাজিত হয়েছি। এ ব্যাপারে প্রবাসী নারায়নের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, আমি কোনো মা-টা চিনি না ওই জমি আমার তাই তাদেরকে কোন পথ দেয়া হবে না।  উনি (মা) এবং বাসুদেবরা কোথা থেকে বাহিরে আসা-যাওয়া করবে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়। শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসকে আব্দুল্লাহ আল-সাইদ জানান, ওই মা’র অবরুদ্ধ হওয়ার কোন অভিযোগ আমাদের কাছে নেই। তবে, তিনি  লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।