কালিগঞ্জের চাম্পাফুলে কমিউনিটি ক্লিনিকে তালা দেয়ার অভিযোগ

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: গর্ভবতী নারীদের প্রসবপূর্ব ও পরবর্তী সেবা, শিশুর সার্বিক স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা শিক্ষা ও পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে গ্রামীণ জনপদের পিছিয়ে পড়া লোকজনের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রধামমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেন। নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে আজ স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে সফল ও মডেল কর্মসূচি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সেই কমিউনিটি ক্লিনিককে উঠিয়ে দেয়া হবে বলে হুমকি প্রদান করেছেন সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার চাম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইন। বুধবার সকালে চাম্পাফুল ইউপি’র চান্দুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার জেসমিন সুলতালার মুঠো ফোনে এ হুমকি প্রদান করেন চেয়ারম্যান। এর পাশাপাশি জোরপূর্বক তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকটিতে। বন্ধ রয়েছে ক্লিনিকের কার্যক্রম।

জানা গেছে, কয়েক মাস আগে মাল্টিপারপাস হেলথ্ ভলান্টিয়ার পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয় ৫ মে। পরীক্ষায় যোগ্য ও মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু চাম্পাফুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইনের পছন্দের লোকদের নিয়োগ না হওয়ায় তিনি গভীর ষড়যন্ত্র শুরু করেন। এক পর্যায়ে বুধবার  সকালে চাম্পাফুল ইউনিয়নের চান্দুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে ফিল্ম স্টাইলে চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইনের ইন্ধনে তালা ঝুঁলিয়ে দিয়েছে ওই এলাকার সুভাষ সরকারের ছেলে হিরণ এবং তার লোকজন। সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকে তালা ঝুঁলিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত করায় এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

চাম্পাফুল ইউপি’র চান্দুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার জেসমিন সুলতালা মুঠো ফোনে জানান, প্রতিদিনের ন্যায় সকাল ৯ টার দিকে তিনি ক্লিনিকে যেয়ে দেখেন ওই ক্লিনিকে দু’টি বড় তালা ঝোলানো। এরপর তিনি ক্লিনিকের সভাপতি ইউপি সদস্য গণি গাজীকে বিষয়টি অবহিত করেন। তার পরামর্শে ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট ফোন দিলে চেয়ারম্যান মোজাম বলেন, আমরা ক্লিনিক সেবা চাই না, ক্লিনিক উঠিয়ে ফেলবো।

চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক গাইনের কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের জায়গা দানকারীর ছেলের চাকরি হয়নি। এজন্য তালা মারা হয়েছে। আমরা ক্লিনিক সেবা চাই না বা ক্লিনিক উঠিয়ে ফেলবো এরকম কথা বলেননি বলে জানান তিনি।

কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ তৈয়েবুর রহমান জানান, যদি কোন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার বা অন্য কেউ কোন অপরাধ করে তার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো উচিত ছিল। কিন্তু সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে এভাবে তালা মেরে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত করা উচিত হয়নি। ক্লিনিকে তালা মারার ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।