গায়ে জ্বর তাই শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেয়া হলো নারীকে

কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শশুরবাড়িতে কয়েকদিন পূর্বে জ্বরে আক্রান্ত হন মৌসুমী আক্তার (২০)। করোনা সন্দেহে এক প্রকার জবরদস্তি করে তাকে শশুরবাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। অনেক কষ্টে তিনি এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় ১২ মে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজারগ্রামে অবস্থিত পিতার বাড়িতে পৌঁছান। সেখানেও অতি উৎসাহী প্রতিবেশীদের কারণে বিপত্তি শুরু হয়। বাধ্য হয়ে ওই তরুণী আশ্রয় নেন পিতার বাড়ির পাশে অবস্থিত সাবেক এমপি এইচএম গোলাম রেজার নির্মাণাধীন বাড়ির একটি কক্ষে। কিন্তু সেখান থেকে ১৩ মে সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে এলাকাবাসী জোরপূর্বক তাকে বের করে দেন। অসহায় ওই তরুণী চলে যান পাশ^বর্তী মথুরেশপুর ইউনিয়নের দেয়া গ্রামে অবস্থিত দাদা বাড়িতে। সেখানেও থাকতে বাধা দেয় এলাকাবাসী। একদিকে জ¦রের কারণে ক্লান্ত শরীর, অপরদিকে একের পর এক আশ্রয় হারানোর বেদনায় মনের কষ্টে ওই তরুণী বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে উপজেলা পরিষদ মাঠের এক কোণায় বসে কান্নাকাটি করছিলেন। ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রাসেলের নজরে আসে। তিনি প্রচ- জ¦রে আক্রান্তÍ ওই তরুণীর কাছে বিস্তারিত ঘটনা শোনার পর বিস্মিত হয়ে যান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে তাকে দ্রুত ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে আছেন।

সরেজমিন গেলে তরুণীর খালা মোমেনা খাতুন (৪০) জানান গত কয়েকদিনে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনা। অসুস্থ একজন মানুষের সাথে এমন অমানবিক আচরণ যারা করেছেন তাদের শাস্তি দাবি করেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ তৈয়েবুর রহমান জানান, মৌসুমী আক্তার নামে ওই তরুণী স্বাভাবিক জ¦রে আক্রান্ত বলেই মনে হচ্ছে। প্রথমে তার শরীরে প্রচণ্ড জ¦র ছিল। তাকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি এখন অনেকটা সুস্থ। তারপরও ওই নারীর নমুন সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রাসেল বলেন, অতি উৎসাহী কিছু মানুষ মৌসুমী আক্তারের সাথে অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করেছে। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।