বেনাপোলে রুগ্ন ও পঁচা গরুর মাংস বিক্রিকালে জব্দ, মাটিচাপা


# বেপরোয়া মিজান কসাই, অভিযোগের তীর পৌর স্যানিটারি পরিদর্শকের দিকে…
শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল :
বেনাপোল বাজারে আবারো রুগ্ন ও আঁধাপঁচা গরুর মাংস বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ল মিজান কসাই সিন্ডিকেট প্রধান মিজান। শুক্রবার বেলা ১২ টার দিকে স্থানীয়দের চাপের মুখে মিজান কসাই সিন্ডিকেটের একটি মাংস বিক্রয়ের খাটিয়া থেকে প্রায় ১ মন আঁধাপঁচা রুগ্ন গরুর মাংস জব্দ করেছেন বেনাপোল পৌর প্রশাসনসহ বাজার কমিটি ও পোর্ট থানা পুলিশ। পরে কেরোসিন মিশিয়ে মাংসগুলি মাটি চাপা দিলেও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, এসব পঁচা-বাসি ও রুগ্ন গরুর মাংস খেয়ে অনেকেই পেটের পীড়াসহ নানা ধরণের জটিল রোগে ভুগছে। তবে, বারবার এ সিন্ডিকেট প্রধান চোরাই গরু নিয়ে আটকসহ রুগ্ন ও পঁচা গরুর মাংস বিক্রি করলেও আইনি শাসন তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। মিজান কসাই সিন্ডিকেটের কালো হাত অনেক লম্বা হওয়ায় এবং বেনাপোল পৌর স্যানিটারি কর্মকর্তার লাগামহীন ঘুষ বাণিজ্যের কারণে প্রতিনিয়ত সে রুগ্ন ও পঁচা গরুর মাংস বিক্রি করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দেখেনি।
এ সময় স্থানীয়রা আরো বলেন, বেনাপোল পৌর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রাশিদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল বাজারের মিজান কসাই সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে ফুটপাত দখলকারি দোকানদার ও ভারতীয় পণ্য বিক্রেতাদের কাছ থেকে সাপ্তাহিক ও মাসিক চুক্তিতে অবৈধ টোল আদায় করে থাকেন। যে কারণে দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে রুগ্ন ও মরা গরুর মাংস বিক্রেতা সিন্ডিকেট থেকে শুরু করে বাজারের কিছু অবৈধ পণ্য বিক্রেতারা। অবশ্য সরকার ঘোষিত লকডাউন থাকায় তার ঘুষ বাণিজ্যের ব্যবসাটা অনেকটা মন্দা যাচ্ছে বলে জানান তারা। বলেন, লক ডাউনের পূর্ব মুহূর্তে তিনি তার দাবিকৃত ঘুষ বাণিজ্যের চুক্তি ভিত্তিক টোল আদায় করতে ব্যর্থ হলে ভিন্ন কায়দায় অবৈধ ব্যবসায়ীদের ঘাড় মটকে ধরেন। উপজেলা প্রশাসন থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসলে তার অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়ে পরিচালনা করা হয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। করিয়ে দেয়া হয় জেল জরিমানা। পরে ভয়ে অন্যন্য ব্যবসায়ীরা তার বিরুদ্ধে টুশব্দটি করেন না। ফলে ঘুষসহ বকশিস নামের পণ্য সামগ্রী উপহার দেন।
বেনাপোল পৌর এলাকার দিঘির পাড় গ্রামের সাহেব আলী নামে এক ভোক্তা জানান, আমি গত সপ্তাহে মিজানের দোকান থেকে মাংস কিনে খেতে পারিনি। ওই মাংস রান্না করার সময় দুর্গন্ধ বের হয়। রান্না শেষে কেউ খেতে পারিনি। এরকম একাধিক অভিযোগ স্থানীয় ভোক্তাদের।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আব্দুল লতিফ নামে এক ফেসবুক আইডিতে তিনি লিখেছেন, বেনাপোল বাজারে প্রতিটি কসাই খাওয়ার অনুপযোগী মাংস, পঁচা মাংস বিক্রি করে থাকে। তারা নানা রোগে আক্রান্ত গরু কম দামে কিনে এই মাংস বেশি দামে বিক্রি করে বেশি লাভ করে থাকে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।
গিয়াস উদ্দিন নামে আরেক ফেসবুক আইডিতে তিনি লিখেছেন, ব্যাবসায়ীরা তো এমন ফাঁকি দিবেই লাভের আশায়। এর দায়িত্বে কে আছে? তাকে জরিমানা করেন। কারণ, এরা ঘুষ খেয়ে এদের মত ব্যাবসায়ীদের সুযোগ করে দেয়। তদন্তকারীর জরিমানা করলে সঠিক দায়িত্ব পালন করবে।
বেনাপোল মাংশের বাজারে কথা হয় পৌর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রাশিদা বেগমের সাথে। যিনি কসাইখানার দায়িত্বে আছেন। তিনি বলেন, বেনাপোল বাজারের সকল গরু ছাগল জবাই হয় পৌর কসাইখানায়। যার দায়িত্বে আছেন তিনি। তবে, এ রুগ্ন গরুটি কসাইখানায় জবাই হলেও তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। পরে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এ গরুটি বিক্রয়ের আগে প্রতিদিনের ন্যায় গরুর গায়ে বেনাপোল পৌরসভার সিল মেরে দেয়া হয়েছে। পৌর টোল বাবদ নেওয়া হয়েছে ১শ’ টাকা ফি। এ সময় মাংশ বিক্রয়ের সাথে তার সম্পর্কের কথা বলা হলে তিনি তেড়ে উঠে এ প্রতিনিধিকে বলেন আপনার “কথা হচ্ছে না”।
এ সময় কথা হয় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে। তার কাছে রুগ্ন ও পঁচা গরুর মাংস জব্দসহ কেরোসিন ঢেলে মাটিতে পুতে রাখা এবং রুগ্নপঁচা গরুর মাংস বিক্রেতা মিজান কসাই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তোর দিতে চাননি। বলেন, যা হয়েছে আপনারাতো দেখেছেন। কোনো কিছু জানার থাকলে ওসি’র সাথে কথা বলেন।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূলক কুমার মন্ডল বলেন, ঘটনাস্থলে বেনাপোল পৌর স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রাশিদা বেগম গিয়েছেন। নাম ঠিকানা সংগ্রহ করে কসাইয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বেও মিজান কসাই সিন্ডিকেটের নামে রুগ্ন ও মরা গরুর মাংস বিক্রয়ের অভিযোগসহ চোরাই গরু ফেরত দেয়ার অভিযোগ আছে। যা সামান্য পরিমাণে জরিমানা দিয়ে আবারো সে বেপরোয়াভাবে চালিয়ে যায় তার অবৈধ ব্যবসা।