করোনার থাবা বিয়েতে, যশোরে কষ্টে আছেন কাজীরা

 

মিরাজুল কবীর টিটো : করোনা ভাইরাসের থাবা বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছেন যশোরে কাজীরা। তারা একপ্রকার বেকার হয়ে কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। এই দুই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে তেমন কোনো বিয়ে দিতে না পারায় তাদের কোনো আয় হয়নি। এমনকি তারা কোন প্রণোদনা অনুদান বা ত্রাণ সহায়তাও পাননি। বেশি দুর্বস্থার মধ্যে আছে গ্রামাঞ্চলের কাজীরা।

যশোর জেলায় মোট কাজীর সংখ্যা ১১৮। এর মধ্যে বিয়ে দেয়ার কাজে কর্মরত আছেন ১১৩ জন কাজী। করোনা ভাইরাসের কারনে ২৫ মার্চ থেকে সরকারি ছুটিতে বিভিন্ন অফিস বন্ধ থাকার সাথে সাথে কাজী অফিস গুলো বন্ধ রয়েছে। বন্ধ থাকার কারনে কাজীরা কোনো আনুষ্ঠানিক বিয়ে দিতে পারেননি। দুই একটা গোপনে বিয়ে দিলেও সেটা হিসেবের মধ্যে পড়ে না। যশোর সদর উপজেলা কাজী সমিতির সভাপতি ও জজকোর্ট মসজিদের গেটের সামনের কাজী অফিসের কাজী মাওলানা মনিরুল ইসলাম জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে ২৫ মার্চ থেকে সরকারি ছুটির সাথে কাজী অফিস গুলো বন্ধ রয়েছে। বন্ধের মধ্যে করোনার ভাইরাসের ভয়ে মানুষ ঘর থেকে থেকে বের হচ্ছে না। বিয়ে করার কথাতো চিন্তায় করছে না। বিয়ে না হওয়ার কারণে আয় না হওয়ায় কাজীদের করুন অবস্থা। করোনা ভাইরাসের আগে মাসে ৫ থেকে ৭টি বিয়ে দিতেন। তাতে যে আয় হতো সেটাই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু করোনার কারণে যশোর লক ডাউন থাকায় সকল প্রকার বিয়ে দেয়ার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে কষ্টের মধ্যে কাজীরা দিন কাটাচ্ছেন। কাজীরা কষ্টের মধ্যে থাকলেও কারো কাছে সাহায্যের কথা বলতে পারছেন না। এমনকি সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা আমরা পাননি। জজকোর্ট কাজী অফিসের অ্যাডভোকেট কাজী কামরুল ইসলাম জানান একই কথা। তিনি জানান, করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের মধ্যে শহরে আনুষ্ঠানিক বিয়ে না হলেও গোপনে দুই একটা বিয়ে হচ্ছে। অথচ গ্রামাঞ্চলে মোটেও বিয়ে না হওয়ায় সেখানকার কাজীরা রয়েছেন কষ্টের মধ্যে। কিন্তু কোনো ধরণের সহায়তা না পাওয়ায় কাজীরা রয়েছেন কষ্টের মধ্যে। যশোর জেলা কাজী সমিতির সেক্রেটারী  ও শহরের পূর্ব বারান্দিপাড়া কাজী অফিসের কাজী মাওলানা মোশারেফ হোসেন জানান, সারা বছর যশোর জেলার কাজীরা প্রতি মাসে কম বা বেশি বিয়ে দিয়ে থাকেন। করোনা ভাইরাসের কারণে দুই মাস থেকে আড়াই মাস কোন বিয়ে দেয়া বন্ধ রয়েছে। গোপনে দুই চারটি বিয়ে হয়েছে। সেটা যথেষ্ট নয়। কারণ করোনা ভাইরাসের আগে প্রতি মাসে আট থেকে দশটি বিয়ে দিতেন কাজীরা। সেই তুলনায় গোপনে দুই,চারটি বিয়ে হলে তো হবে না। বিয়ে না হওয়ায় কাজীরা কোনো রকম খেয়ে পরে বেঁচে আছেন। সরকারিভাবে কাজীদের কোনো সহায়তা দেয়া হয়নি। কাজীদের সহায়তার জন্য যশোর জেলা প্রশাসককে জানানো হলেও কোনো সাহায্য পাননি তারা। প্রনোদনা সহায়তা পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়েছে।

যশোর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এনডিসি প্রিতম সাহা জানান, সরকারি সহায়তা পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দেয়া হয়ে থাকে। কাজীরা তাদের সংশ্লিষ্ট পৌরসভার মেয়র বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে আবেদন করুক। সেখান থেকে যদি সহায়তা না পান তাহলে আমাদের জানালে সহায়তা করা হবে।