ডেঙ্গু নিয়ে যশোরে প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ

 

বিল্লাল হোসেন: যশোরে এ বছরও ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগে ভাগেই প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন তারা। ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে ৫ সদস্যের ১ টি ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটি। এছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ কর্মীদের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার জন্য নিয়মিত অবহিতকরণ সভা উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকেও পরিস্কার পরিছন্নতার বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানিয়েছে , ২০১৯ সালে যশোর জেলায় ৪ হাজার ১শ ৬ জন নারী পুরুষ ও শিশু ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। এ সময় ৬ জনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন, যশোরের কেশবপুর পৌর এলাকার সোনাপট্টি এলাকার আনন্দ ঘোষের স্ত্রী সাগরিকা ঘোষ (২৮), বাঘারপাড়া উপজেলার ভাগুড়া গ্রামের বাসিন্দা শাজাহান আলী বিশ্বাস (৭০), মণিরামপুর উপজেলার হানুয়ার গ্রামের কাদের মোল্যার স্ত্রী জাহিদা বেগম (৩৫), কাশিমনগর গ্রামের ইমান আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৪৫), রাজবাড়িয়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর স্ত্রী রেবেকা বেগম (৫৫) ও যশোর ইবনেসিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নড়াইলের রোকসানা পারভীন রানী (৫২)। ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছিলো চৌগাছা, মণিরামপুর ও বাঘাড়পাড়া উপজেলায়। গত বছরের প্রাদুর্ভাবের কারণে যশোর জেলায় এবারও ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কারণ হিসেবে জানায়, ডেঙ্গু মশার ডিম এক বছর পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। পানি পেলেই ডিম থেকে বাচ্ছা তৈরি হয়। গত বছরে ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের কারণে এডিস মশার অনেক ডিম থেকে গেছে। চলতি বছরের জুন মাসের দিকে বৃষ্টি হলেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটবে। যে কারণে যশোর ডেঙ্গু ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।  যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, গত বছরের পরিস্থিতি অনুয়ায়ী এই বছরও যশোরে ভয়াবহ ডেঙ্গু পরিস্থিতির তৈরি হতে পারে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিত উঠান বৈঠক ও অবহিতকরণ সভা করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু সচেতনতার বিষয়ে আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ কর্মি ও কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের জনগণের সচেতন করার কাজে মাঠে নামানো হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সক্রিয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিভিল সার্জন আরো জানান, এছাড়া বাড়ির আশপাশ ও ডোবা নালা নিয়মিত পরিস্কার, ফুলের টব, টায়ার ও ডাবে পানি জমে না থাকে সেজন্য মানুষকে আগে ভাগে সচেতন করে দেয়া হচ্ছে। উপজেলার মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রতিটি উপজেলায় দায়িত্বরত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যশোর শহর পরিস্কার পরিছন্ন রাখতে যশোর পৌরসভার মেয়রকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু মৌসুমের আগেই এসিড মশা নিধনে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা জারি করা হবে। কেননা পরিস্কার পরিছন্ন পরিবেশের মাধ্যমেই এডিস মশার উৎপীড়ন ঠেকানো সম্ভব।