এ যেন চাঁদ রাতের ঢল !

মারুফ কবীর : ঈদের  এখনো বাকি। কিন্তু যশোরের ঈদ বাজারে আগেভাগেই ২৪ রোজার দিন সোমবার মানুষের ঢল নেমেছিলো। এ যেন চাঁদ রাতের বেচাকেনা। সাধারণত ঈদের আগের দিন অর্থাৎ চাঁদ রাতে ঈদ বাজারে এমন ভিড় দেখতে পাওয়া যায়। তবে জেলা প্রশাসনের  নির্দেশে শপিংমল সোমবার পর্যন্ত খোলা ছিলো। মঙ্গলবার থেকে শপিংমল মার্কেট বন্ধে জেলা প্রশাসন থেকে সোমবার গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। ঈদের কয়েকদিন বাকি থাকলেও গতকাল শেষবারের মতো খেলা হয় দোকানপাট। ফলে যে যেমনি পেরেছে বাজারের এসে ঈদের কেনাকাটা করেছেন। করোনার  ভয়াবহ পরিস্থিতির কোনো ছাপ ছিলো না মানুষের মাঝে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোববার দুপুরের পরে বন্ধের খবরে বাজারে ভিড় শুরু হয়। সোমবার সকাল থেকে সে ভিড় বেড়ে যায়। সরেজমিনে দেখা যায় সোমবার সকাল ৯ টা এমনকি তারও আগে বেশিরভাগ দোকান খোলেন ব্যবসায়ীরা। আর ঈফতারির আগ পর্যন্ত বেশকয়েকটি দোকান খোলা রাখা ছিলো। ব্যবসায়িরা বলছেন আজ (গতকাল) ঈদের আগে শেষ বেচাকেনা। এজন্য সকালে একটু আগে ও বিকেলে ৪ টার পর দোকান খোলা রেখেছি। শুধু ঈদ বাজার বা শপিংমলগুলোতে নয়, ফুটপাতেও মানুষের ঢল নামেছিলো।  শহর, শহরতলীর এমকি গ্রামের ক্রেতারাও গতকাল বাজারে আসেন। ব্যবসায়ীরা আরও বলেন আজ (গতকাল) ভালো বেচাকেনা হয়েছে। এমনকি ক্রেতা সামলাতে রিতিমত হিমশিম খেয়েছেন তারা। করোনা পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের মতো গোটা বাংলাদেশ যখন আতঙ্কে তখন ঈদের মার্কেট গুলোতে আসা মানুষের কারও মাঝে নেই আতঙ্কের কোনো ছাপ। মার্কেটে ঢুকলে মনে হয় দেশে করোনা নামক কিছুই নেই এখন। টেইলার্সের দোকানে পোশাক ডেলিভারি নিতে কাষ্টমারের ভিড় পড়ে যায়। বন্ধের খবরে মোবাইল ফোনে , টেইলার্সে পোশাক নিতে চাই কাস্টমার। মর্ডান টেইলার্সের প্রোপাইটর রুহুল আমিন বলেন, অল্প সংখ্যক পোশাক তৈরি হয়েছিলো যেগুলো কাস্টমারকে দিতে পেরেছি। বিকেল পর্যন্ত কারিগররা যতটা পেরেছে তা ডেলিভারি দিয়েছি। বাকিদের বলেছি খুললে পাবেন। এর মধ্যে অনেকে অর্ডার বাতিল করে কাপড় নিয়ে গেছেন। এইচ এমএম রোডের দেখা ফ্যাশানের প্রোপাইটর মান্না দে লিটু বলেন, আজ (গতকাল) ভালো বিক্রি হয়েছে। এইচ এমএম রোডের শিশু পোশাকের দোকান ডরেমনের প্রোপাইটর নাজমুল ইসলাম রিপন বলেন, শিশু পোশাকের দোকানিরা ভালো বেচাকেনা করেছেন। তিনি বলেন, বড়রা নিজেদের পোশাক না কিনলেও বাচ্চাদের জন্য সাধ্য মতো ঈদের পোশাক কিনেছেন। কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেট হ্যাভেন ড্রেসের প্রোপাইটর সুমন বলেন, আমাদের মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় ছিলো। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিরামহীন বেচাকেনা করেছি। যশোর শাড়ি কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তন্ময় সাহা বলেন, বাজারের শাড়ির দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। তবে দামি শাড়ি তেমন বিক্রি না হলেও দেশিও প্রিন্টের শাড়ির বিক্রি বেশি হয়।  সিটি প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি শফিকুর রহমান আজাদ বলেন, ঈদের আগে শেষ বেচাকেনা এজন্য কাস্টমারের বেশি চাপ ছিলো। তিনি বলেন, দোকান মালিকদের সমিতির পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়েছে , তারা যেন কর্মচারির বেতন দিয়ে দেন।  জেস টাওয়ার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা এমএ আকসাদ সিদ্দিকী শৈবাল বলেন, ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হলেও আমরা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।  স্টেডিয়াম পাড়ার হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী  রুবেল হোসেন বলেন, ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হয়েছে। বিক্রি ভালো হলেও ঈদ পর্যন্ত ব্যবসা করতে পারলে ক্ষতি কিছুটা পোশানো যেতো। লিবার্টি  গ্যালারির বিক্রয় কর্মী জুলফিকার আলী বলেন, ঈদের  আগে দোকানপার্ট খুলবেনা এ কারনে যে যেমনি পেরেছে বাজারে এসেছে। নিজের ও পরিবারের জন্য জুতা স্যান্ডেল কিনেছে।