মোংলা বন্দরে ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় পণ্য উঠানামা বন্ধ,আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত

এরশাদ হোসেন রনি, মোংলা : ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় মোংলা বন্দরে পন্য উঠা-নামার কাজ বন্ধ রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, উপজেলা প্রশাসন এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত আছে। ১৯ মে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহি অফিসারের কার্য্যালয়ে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহাবিপদ সংকেত ৮ হলেই সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হবে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষথর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজান জানান বন্দরের বহিনোর্ঙ্গরে অবস্থান করা ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। বন্দরের পন্য উঠা-নামার কাজ বন্ধ আছে। দুটি কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর গতিবিধি এবং তা মোকাবেলার কাজে নজর রাখছে। বর্তমানে বন্দরের নিজস্ব এলার্ট থ্রি জারি আছে। মহাবিপদ সংকেত ৮ ঘোষাণা করার সাথে নিজস্ব এলার্ট ফোর জারি করা হবে। উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ রাহাত মান্নান জানান মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার। সভায় মোংলা নৌ কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লেঃ আরিফুল ইসলাম, থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল চৌধুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল হোসেন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রকে জীবানুমুক্ত করে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মহাবিপদ সংকেত ৮ হলেই সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া হবে। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনা খাবার এবং সেহরী খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রায় দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক মাঠে আছে। অন্যদিকে কোস্টগার্ড সূত্রে জানাগেছে সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপদে থাকার জন্য কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। সুন্দরবন এবং উপকূলে কোস্ট গার্ডের ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত আছে। আশ্রয়কেন্দ্র গুলিতে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জেলেদের খাদ্য সরবরাহ করা হবে। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান বন বিভাগের কর্মকর্তা ও জেলেদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। মোংলাপোর্ট পৌরসভার পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক কন্ট্রোল রুম খোলা রাখার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে।