যশোরে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত ছিল ২২২১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

মিরাজুল কবীর টিটো : ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে বুধবার যশোরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। সারাদিন বৃষ্টি  হাওয়ায় আতঙ্কে শহরে মানুষের উপস্থিতি কম ছিল। ঝড়ে দুর্যোগ থেকে মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার জন্য জেলার ২ হাজার২২১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখাসহ  ৫টি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছিল বলে জানায় জেলা প্রশাসন। সেই সাথে মানুষকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল। এদিকে ঝড়ে যশোরের অনেক স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ায় ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় এদিন রাতে বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল।

বুধবার সন্ধ্যার পরে আম্পান ঝড় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। ঝড়ের প্রভাবে যশোরে সারাদিন বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইয়ে যায়। একারনে শহর ছিল অন্য দিনের তুলনায় ফাঁকা। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোন মানুষ বাইরে বের হননি। এদিকে যশোর জেলার ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মানুষকে ঝড় দুর্যোগ থেকে  নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছেল আট উপজেলার ২ হাজার ২২১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ১ হাজার ২৮৫ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৪৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩৮৭টি কলেজ ও মাদ্রাসা। জেলা শিক্ষা অফিসার এএস এম আব্দুল খালেক জানান, ঝড়ের কারনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে শিক্ষা অফিসকে। শিক্ষা অফিস থেকে এ নির্দেশনা জানিয়ে দেয়া হয় জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার। যাতে করে কোন এলাকার মানুষ ঝড়ে কবলে পড়লে অত্র এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিতে পারে এজন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করে। একই কথা জানান জেলা প্রাথমিক শেখ অহিদুল আলম। এদিকে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এনডিসি প্রিতম সাহা জানান, ঝড়ের কবল থেকে জেলার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার জন্য আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি ৫টি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। টিম গুলো হচ্ছে যশোর জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, রেড ক্রিসেন্ট,স্কাউট ও মেডিকেল টিম। সেই সাথে মানুষকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল। তবে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত জানানো হয় কোন মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। যশোর বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ -২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান অনেক স্থানে বৈদ্যুতিক খাম্বা ভেঙ্গে পড়ার সাথে সাথে তারও ছিঁড়ে পড়ে। সেগুলো মেরামত না করে বিদ্যুৎ দেয়া যাবে না। গভীর রাত পর্যন্ত সারা যশোর জেলায় সন্ধ্যার পর থেকে বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। যশোর শহর ছিল অন্ধকারে। রাতে সংবাদ লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল।