আম্পানে লণ্ডভণ্ড বাজার কমেছে সবজির দাম

মুর্শিদুল আজিম হিরু : আম্পানের আঘাতে যশোরের টাউন হল ও ঈদগাহ ময়দানের বাজার লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সবজি বাজারে দুই একজন ক্রেতা বিক্রেতা থাকলেও মাছ বাজারে কোনো ক্রেতা বিক্রেতা ছিল না। এর মধ্যে সবজির দাম কমলেও পেঁয়াজের দাম কিছুটা ঊধ্বমুখি। এ ছাড়া চাল, ডাল, রসুন, মরিচ ও ভোজ্য তেলের দাম আগের মত আছে। বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে টাউন হল ময়দানের মাছ বাজার ফাঁকা দেখতে পাওয়া যায়। এসময় আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তি জানান, সকাল থেকে কোন মাছ বিক্রেতা আসেনি। হাতে গোনা  দুই একজন মাছ কিনতে আসলেও তারা মাছ না পেয়ে চলে গেছে। তবে কয়েকজন মাছ বিক্রেতা টাউন হল ময়দানে এসে মাছের ঝুড়ি, খুঁটি ঠিক করে রেখে গেছেন। মাছের ঝুড়িসহ অন্যান্য বাঁশ খুটি উড়ে যাওয়ায় তারা ঠিক করেছেন। কাল হয়তো মাছ নিয়ে আসতে পারেন।

যশোর ঈদগাহ ময়দানে সবজির বাজারে ভিন্ন দৃশ্য দেখা গেছে। সবজি বাজারে সব কিছু লণ্ডভণ্ড হয়েছে। বাঁশ খুঁটি কোথাও ঠিক ছিল না। বৃহস্পতিবার অধিকাংশ খুচরা ব্যবসায়ীরা এসে তাদের বাঁশ খুঁটি ঠিক করেছেন। অনেকে বাঁশ খুঁটি ঠিক করে চলে গেছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন ব্যবসায়ী অল্প কিছু তরকারি নিয়ে এসেছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। কাল পরশু আবার খুচরা ব্যবসায়ীরা আবার তরকারি নিয়ে আসবেন বলেছেন ব্যবসায়ী শওকত আলী। তিনি ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন।

এদিকে  বাজারে সবজির দামও কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয় ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা। ১৫ টাকা  কেজি বিক্রি হয় কুমড়া। প্রতি কেজি সজনে বিক্রি হয় ৮০ টাকা। ২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ধেঢ়স। প্রতি কেজি বরবটি বিক্রি হয় ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা। ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয় উচ্ছে। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হয় ৩০ টাকা থেকে ৩৫ টাকা। ২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ডাঁটা। প্রতি কেজি পুঁইশাক বিক্রি হয় ১৫ টাকা। ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয় টমোটো। প্রতি কেজি কুশি বিক্রি হয় ২০ টাকা। ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয় কচুরলতি। প্রতি কেজি কলা বিক্রি হয় ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা। ২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় পটল। প্রতি কেজি ধুন্দল বিক্রি হয় ২০ টাকা কেজি। ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হয় ঝিঙে। প্রতি কেজি কাঁকরোল বিক্রি হয় ৪০ টাকা কেজি।

বাজারে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখি। কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা।  ১শ’ ১০ টাকা থেকে ১শ’ ২০ টাকা কেজি বিক্রি হয় রসুন। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয় ২২ টাকা। ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয় কাঁচামরিচ।

বাজারে ভোজ্য তেল ঊর্ধ্বধামে অপরিবর্তিত আছে। প্রতি কেজি সয়াবিন তেল বিক্রি হয় ৯৮ টাকা। ৮৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় সুপার পাম তেল। প্রতি কেজি পাম তেল বিক্রি হয় ৭৫ টাকা।

বাজারে ডালের দাম আর বাড়েনি। আমদানি ডালের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় পর্যন্ত ডালের দাম কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।  প্রতি কেজি দেশি নতুন মসুর ডাল বিক্রি হয় ১শ’২৫ টাকা থেকে ১শ’ ৩০ টাকা কেজি। ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হয় আমদানিকৃত মসুর ডাল। প্রতি কেজি ছোলার ডাল বিক্রি হয় ৮০ টাকা থেকে ৮৫ টাকা। ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হয় বুটের ডাল। প্রতি কেজি মুগের ডাল বিক্রি হয় ১শ’ ৫০ টাকা থেকে ১শ’ ৬০ টাকা। ১শ’ টাকা কেজি বিক্রি হয় কলাইয়ের ডাল।

বাজারে চালের দাম আগের মত আছে। প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হয় ৩৮ টাকা থেকে ৪০ টাকা। ৫২ টাকা থেকে ৫৪ টাকা কেজি বিক্রি হয় দেশি বাশমতি চাল। প্রতি কেজি বিআর-২৮ ও কাজললতা চাল বিক্রি হয় ৪২ টাকা থেকে ৪৪ টাকা।  ৪৬ টাকা থেকে ৪৮ টাকা কেজি বিক্রি হয় নতুন-পুরাতন মিনিকেট চাল।