যশোরের ১০৬ ননএমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষক কর্মচারী মানবেতরে

নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর ফুলবাড়ি সিদ্দীন আউলিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক সেলিম সুলতান । ২০০৪ সালে নিয়োগ হয় তার। প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক শাখা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করছেন তিনি। কয়েক মাস পর পর স্কুল থেকে এক হাজার টাকা দেয়া হয় তাকে। টেউশনির উপর নির্ভর করে তিনি সংসার চালান। করোনার জন্য স্কুল ও টেউশনি বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন। কিভাবে ঈদ কাটবে সেই চিন্তায় নেই তার। শুধু সেলিম নয় তাদের প্রতিষ্ঠানে এ রকম ছয়জন শিক্ষক কর্মচারী রয়েছে। তারা বলেন, চাকরি করেন বলে কেউ তাদের খোঁজ নিচ্ছে না। চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। তারা কারো কাছে সহযোগিতা চান না। চান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত হোক। তাদের প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়ার সব যোগ্যতাই অর্জন করছে। এমপিওভুক্তির মাধ্যমে বেতন দিলেই তারা খুশি।

যশোর বিআরবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম । ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন। স্কুলের এমপিও না থাকায় ২৬ বছর তার ভাগ্যে বেতন জোটেনি। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে টাকা বেতন নেন তাই দিয়ে খুব কষ্টে সংসার চলে তার। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় তারা বেতন নিতে পারছেন না। কিভাবে ঈদ করবেন তা ভেবে পাচ্ছেন না তারা। তার মত একই অবস্থা তার স্কুলের দশজন শিক্ষক-কর্মচারীর।

২০০৩ সালে নিজে চৌগাছায় হাকিমপু মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে  আশরাফুল ইসলাম বিপু অধ্যক্ষ পদে চাকরি করছেন। একযুগের বেশি সময় পার হলেও এমপিও হয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ছাত্রীদের বেতনে কলেজ চলতো। করোনার কারণে ক্লাস বন্ধ। বেতনও নিতে পারছেন। প্রতিষ্ঠানে কেউ সহযোগিতা করেন না। এভাবে চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। তিনি কোন অনুদান চান না। শুধুমাত্র কাজের পারিশ্রমিক চান। চৌগাছা জেএমএসকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আশাদুল ইসলাম । ২০০৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানে শুরু থেকেই চাকরি করছেন। ২৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছে তার প্রতিষ্ঠানে। চাকরির পাশাপাশি তার    শিক্ষক-কর্মচারীরা কেউ অন্য পেশায় জড়িত না। প্রতিষ্ঠান থেকে তাদের যে বেতন দেয়া হয় তাও করোনা ভাইরাসের কারনে বন্ধ রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তাদের না খেয়ে মরা ছাড়া পথ থাকবে না।

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়  যশোর  জেলায়  ননএমপিওভুক্ত ১০৬ টি  প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন  পাঁচশতাধিক শিক্ষক,কর্মচারি।সেখানে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তাদের সবার অবস্থাই চরম নাজুক। বিনাবেতনে চাকরি করাই  তাদের মানবেতর জীবন-যাপন করছেন । এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাঘারপাড়ায় ৭, ঝিকরগাছায় ২৫, কেশবপুরে ১৩, চৌগাছায় ১৩, মণিরামপুরে ১৯, সদরে ১৮ ও শার্শায় ১১ টি স্কুল কলেজ রয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএসএম আব্দুল খালেক  বলেন, ননএমপিও শিক্ষকদের প্রতি অন্য রকম মনোভাব রয়েছে। কোন সুবিধা থাকলে তাদের একটু বেশি দেয়া হয়। করোনা দুর্যোগে সরকার শিক্ষকদের কোন সুবিধা দিলে তাদেরকে সেই আওতায় আনার জন্য জোর চেষ্টা করবেন তিনি।