সংসার খরচ বাঁচানোর টাকায় ঈদ পোশাক পেল স্বপ্নলোকের পাঠশালার শিক্ষার্থীরা


এম আলমগীর, ঝিকরগাছা:
সংসার খরচ বাঁচানোর টাকায় ঈদ পোশাক পেল ঝিকরগাছার স্বপ্নলোকের পাঠশালার শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষাকের সংসারের খরচ বাঁচানো ও একটি বিদেশী সংস্থার অর্থায়নে এ পোশাক প্রদান করা হয়েছে।
সুদূর পরিসর পরিকল্পনা না নিয়েই শুরু হয়েছিল স্বপ্নলোকের পাঠশালা। সমাজের পিছিয়ে পড়া, হতদরিদ্র, অসহায়, যাদের অনেকের মা-বাবা ফেলে রেখে অন্যত্র চলে গেছে, অভিভাবকদের মধ্যে অন্যের বাড়িতে ঝি এর কাজ করেন, ভ্যান চালাক, বাস-ট্রাকের হেলপার, মিস্ত্রী, যাদের ঘরে ঠিকমত খাবার থাকে না, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করার জন্য নগদ অর্থ নেই্ এমন অসহায়তার মধ্যে যারা জীবনযাপন করে। যে বাচ্চারা কোনদিন পড়াশুনা করার স্বপ্ন দেখেনি। পড়াশুনা না করে ঘুড়ে বেড়াতো। একটু বড় হলেই তাদের শিশুশ্রমে জড়ানো হতো। সেই সকল শিশুদের মাধ্যে শিক্ষার আলো পৌছে দিতে ২০১৭ সালে প্রাক-প্রাথমিকের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে স্বপ্নলোকের পাঠশালা শুভ সুচনা হয়। সম্প্রতি কোভিট-১৯ সংক্রমণে প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকরা কর্মহীন হয়ে পড়ে এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান মেঘনা ইমদাদ নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে খাদ্য সহায়তা, নগদ অর্থ ও শিশু খাদ্য বিতরণ করেছেন।
শনিবার সকালে আমেরিকার গোফান্ডমি এবং সমাজের কয়েকজন দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ২৫ জন শিক্ষার্থীদের ঈদের পোশাক ও তাদের অভিভাবকদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মেঘনা ইমদাদের সভাপতিত্বে পোশাক ও খাদ্য সহায়তা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিশিষ্ট সাহিত্যিক সফিয়ার রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলা সমবায় অফিসার এবিএম কামরুজ্জামান, উপজেলা ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলেটেটর দুলাল দেবনাথ, প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইমদাদুল হক ইমদাদ, উপজেলা শিক্ষা অফিসের সিও (ব্যানবেইস) তরিকুল ইসলাম প্রমূখ।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক শিক্ষানুরাগী মেঘনা ইমদাদ স্নাকোত্তর (এমএসসি) শেষ করে চাকুরীর চেষ্টা না করে নিজের সংসার চালানোর খরচ বাঁচিয়ে এবং হস্তশিল্প ব্যবসার মুনাফা দিয়ে তিনি ঝিকরগাচা পৌর সদরের অভ্যন্তরে কৃষ্ণনগরে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বপ্নলোকের পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৭ সালে ২২ জন, ১০২৮ সালে ২৭ জন, ২০১৯ সালে ২৮ জন এবং ২০২০ সালে ২৫ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান মেঘনা ইমদাদ বলেন, সংসারের খরচ বাঁচানো টাকা দিয়ে আমি এ শিশূদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। সমাজের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা অনুভব করে শূণ্য থেকে এ কাজটি শুরু করেছিলাম। অনেকেই উৎসাহ দিয়েছেন। তবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ কাজটি করেযেতে চাই।