করোনায় আক্রান্ত ঢাকায় মৃত ৩ ব্যক্তিকে যশোরে দাফন

নিজস্ব প্রতিবেদক : কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মারা যাওয়া ৩ জনকে যশোরে দাফন করা হয়েছে। বেসরকারিভাবে স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যরা তাদের দাফনকার্য সম্পন্ন করেন। তারা সকলেই যশোরের বাসিন্দা ছিলেন। কর্মের কারণেই তারা ঢাকায় বসবাস করতেন।

জানা গেছে, সর্বশেষ দাফন হওয়া আনিসুর রহমান কলির বাড়ি যশোর শহরের রবীন্দ্রনাথ সড়কে নতুন বাজারের পেছনের এলাকায়। রাজধানীর নবাবপুরে তার কৃষি পার্টসের ব্যবসার সুবাদে পুরান ঢাকার ওয়ারি এলাকায় সপরিবারে বসবাস করতেন। কলি ঢাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। প্রথমে তাকে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ণ হসপিটালে নেয়া হয়েছিল। সেখান থেকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে ডাক্তার না থাকায় সেখান থেকে মিরপুর ১২ নাম্বারের রিজেন্ট হসপিটালে নিয়ে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভেন্টিলেশন পাওয়ায় তা খুব একটা কাজে লাগেনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কলি। ২৬ মে রাত সোয়া নয়টার দিকে কলির মৃতদেহ যশোরের বাড়িতে পৗঁছায়। রাত পৌনে ১১টায় কারবালা গোরস্থানে যশোরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার এলাকার শফিকুল ইসলাম জুয়েলের নেতৃত্বাধীন দাফনযোদ্ধা টিমের সদস্যরা কলির মরদেহ দাফন করেন। এরআগে চাঁদরাতে কারবালা গোরস্থানে জুয়েলের টিম দাফনকার্য সম্পন্ন করেন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বর্তমানে শহরের  টালিখোলা এলাকার বাসিন্দা বিশিষ্ট কলামিস্ট আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলাম রন্টুর ছেলে তমারুল ইসলাম তমালের। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ মে সকালে তমালের মৃত্যু হয়। তিনি অ্যাসেট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হোল্ডিংস লিমিটেড নামে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সহকারি মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে তমাল ঢাকায় বসবাস করতেন। তিনি দুই সন্তানের জনক।

এর আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মারা যাওয়া শার্শার চটকাপোতা গ্রামের বাসিন্দা মো. হুমায়ুন কবীর নামে এক ব্যক্তিকে দাফন করে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানিয়েছেন, দাফনকার্যের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর যশোরে মৃতদেহ এনে দাফনের বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগকে অবগত করা উচিত ছিলো। জানার পর স্বাস্থ্য বিভাগ সরকারিভাবে দাফনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতো। তবে নিজেরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে দাফনে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। তবে অবশ্যই দাফনকার্যে শতভাগ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।