খুলেছে যশোরের শপিংমল : কেমন গেলো প্রথমদিন

মিরাজুল কবীর টিটো : করোনাভাইরাসের দাপটে বন্ধ থাকা যশোরের সকল শপিংমল ও দোকান পাট বৃহস্পতিবার থেকে ফের খুলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ঈদুল ফিতরের পর শপিংমল ও দোকান পাট খুললেও প্রথম দিন তেমন বেচাকেনা হয়নি। তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূরত্ব বজায় রেখে বেচাকেনা হয়েছে। ক্রেতাবিক্রেতাদের মাস্ক পরে থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে, ঈদের দুইতিন দিন আগে দোকানপাট খুলে দেয়া হতো তাহলে ভাল বেচাকেনা করা যেতো বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। এতে ব্যবসায়ীদের যে ক্ষতি হয়েছে সেটা আর পূরণ হবে না।

করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৫ মার্চ শপিংমল দোকানপাট বন্ধ করা হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবসায়ীরা বেচাকেনা করবে এ শর্তে গত ১০ মে যশোরের সকল শপিংমল ও দোকানপাট ফের খোলার অনুমতি দেয় যশোরের জেলা প্রশাসন। খোলার পরে বাজারে মানুষের বেশি ভিড় হতে থাকে। এতে করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কায় ১৯ মে বন্ধ করে দেয়া হয় সকল শপিংমল ও দোকান পাট। ব্যবসা সচল রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বুধবার সার্কিট হাউজে মতবিনিময়সভা করে যশোরের জেলা প্রশাসন সকল শপিংমল ও দোকানপাট খোলার অনুমতি দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঈদের পরে প্রথম দিন সকল শপিংমল ও দোকান পাট খোলা হলেও তেমন বেচাকেনা হয়নি বলে জানালেন দোকানদাররা। শহরের এইচ এমএম রোর্ডের থ্রীপিচ হাউজের মালিক জুয়েল জানান ঈদের পরে দোকান খুললেও তেমন বেচাকেনা হয়নি। দুইএকটি থ্রীপিচ বিক্রি করেছি। এটা বেচাকেনার মধ্যে পড়ে না। এইচএমএম ক্লোথ স্টোরের মালিক ও ছিট কাপড় ব্যবসায়ী মালিক সমিতির আবু হোসেন জানান, রোজার শেষের দিকে দুইতিন দিন দোকান খোলা রাখলে বেচাকেনা ভাল হতো। কারন ঈদের পরে মানুষ কাপড় কিনতে বাজারে আসে না। তারা যা কেনাকাটা করে সেটা ঈদের আগে। সেই বেচাকেনায় ব্যবসা চালাতে হয়। তাই দোকান খুললেও বেচাকেনা হয়নি বললে চলে। তবে ঈদের আগে সকল শপিংমল ও দোকান পাট বন্ধ করে দেয়ায় ব্যবসায়ীদের যে ক্ষতি হয়েছে সেটা পুরণ হবে না। কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমেদ মুন্না জানান ঈদের পরে বাজারে তেমন ক্রেতা নেই। এ কারণে বেচাকেনা  হয়নি বললে চলে। দোকান ছিল ফাঁকা।

এদিন বাজারে পোশাক কিনতে আসেন পারভীন খাতুন নামে এ মহিলা। তিনি জানান তার একটি মেয়ে, ঈদে দোকানপাট বন্ধ থাকায় পোশাক কেনা যায়নি। এ কারণে মেয়ের পোশাক কেনার জন্য বাজারে এসেছি। রাফি বুঁটিকসের পরিচালক জাহানারা পারভিন জানান,  ঈদের আগে দোকানপাট বন্ধ থাকায় কাপড় কিনতে না পারায় অর্ডারের মাল দিতে পারিনি। দোকান খোলায় বাজারে কাপড় কিনতে এসেছি। কাপড় কিনে পোশাক তৈরি করে দিতে হবে।

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, দোকানদাররা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বেচাকেনা করবে এই শর্তে গত ১০ মে সকল শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়া হয়। কিন্তু তারা শর্ত মেনে বেচাকেনা  না করার কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়। ব্যবসা সচল রাখার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দোকানপাট খুলে দেয়ার জন্য ফের পরিপত্র জারি করেছে। তার প্রেক্ষিতে যশোরের সকল শপিংমল ও দোকান পাট খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে বেচাকেনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।