যশোর শহরে যুবক খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
শুক্রবার রাতে যশোর শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে যুবক আল মামুন (১৯) খুন হয়েছে। মামুন খড়কী স্টেডিয়ামপাড়ার বুলুর বাড়ির ভাড়াটিয়া আবুল বাশারের ছেলে। পেশায় তিনি এক নির্মাণ শ্রমিক। তার পৈত্রিক নিবাস কেশবপুরের ব্রক্ষ্মকাটি গ্রামে।
মামুনের বন্ধু খড়কী আপনের মোড়ের নওয়াজের ছেলে আরাফাত জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে স্টেডিয়ামের গেটের সামনে বটগাছের নিচে তিনি, নিহত মামুন ও আরেক বন্ধু সাজিম বসে ছিলেন। সে সময় ওই এলাকার এবং আরবপুর এলাকার বেশ কয়েকজন সেখানে যায়। কথা আছে বলে তারা স্টেডিয়ামের মধ্যে নিয়ে যায়। তারা স্টেডিয়ামের গেট টপকিয়ে ভেতরে ঢোকে এবং সেখানে গিয়ে বসে। সে সময় তাদের প্রতিপক্ষ খড়কী হাজাম পাড়ার রকিকুল ইসলামের ছেলে সাব্বির, আরবপুর এলাকার ব্লাক সিয়াম, মাহিন, খোলাডাঙ্গার জয়, মিশু, এমএম কলেজপাড়ার রফিক, রসুল, তাসিম, হৃদয়, বক্কার, আরিফসহ ১৮/২০জন ছিল। তারা সেখানে নিয়ে গিয়ে বলে ‘এমএম কলেজের ছাত্রলীগের নেতা তৌহিদুর রহমান এবং আরবপুর এলাকার যুবলীগ নেতা সাইদুজ্জামান বাবু ভাইয়ে নামে কী বলেচিস তাদের নামে কথা বলতে হলে সম্মান দিতে হবে।’ এই নিয়ে কথাকাটকাটি হয়। পরে স্টেডিয়াম থেকে সকলে বের হয়ে খড়কী কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির পাশে বটতলায় যায়। সেখানে গিয়ে ফের তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে সকলে মিলে মামুনকে কিল, ঘুষি, লাথি, চড়, থাপ্পড় মারতে থাকে। এক পর্যায়ে সাব্বির হাতে থাকা চাকু দিয়ে শরীরে আঘাত করে চলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টার দিকে মৃত্যু হয়।
হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসক রেফাত শিকদার জানিয়েছেন, আহত রুগীর অবস্থা বেশ খারাপ ছিল। তার ডান পায়ের উরুর উপরের অংশের শিরা (চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় আটারি) কেটে যায়। ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। রক্ত বন্ধ করা যায়নি। ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে।
কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) শেখ আবু হেনা মিলন জানিয়েছেন, খড়কী এলাাকায় ছুরিকাঘাতে মামুন নামে এক যুবক মারা গেছে। তাকে কারা হত্যা করেছে তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। আসামি আটকের জন্য ইতোমধ্যে ওই এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।