যশোরে শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া ২৫ শতাংশ মওকুফ

মিরাজুল কবীর টিটো : যশোরে শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া ২৫ শতাংশ মওকুফ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে মানবিক দিক বিবেচনা করে মেস মালিকরা তাদের কাছ থেকে ৭৫ শতাংশ ভাড়া নিতে পারবেন। এপ্রিল মাসের ভাড়া থেকে শুরু করে যতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুলবে ততদিন এই ভাড়া নিতে হবে। ভাড়া নেয়ার ক্ষেত্রে মেস মালিকদের সহনশীল হতে হবে। সেই সাথে ভাড়ার বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের কারো আপত্তি থাকলে দ্বিপাক্ষিকভাবে অর্থাৎ  মেস মালিক ও মেসের ভাড়াটিয়া বসে সমঝোতা করতে হবে । এখানে তৃতীয় কোনো পক্ষকে ডাকা যাবে না। সেই সাথে ভাড়া দিতে না পারলেও কারোর সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা যাবে না।

সমস্যা থাকলে মেস মালিক ও শিক্ষার্থীরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সাথে দুর্ব্যবহার না করে ভালো আচরণ করতে হবে ।

শনিবার যশোর সার্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের সাথে মেস মালিকদের মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হাসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান, সরকারি এমএম কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর লুৎফর রহমান, সিঙ্গিয়া আদর্শ কলেজের অধ্যাপক আসাদুল ইসলাম, প্রাক্তন কাউন্সিলর নূরুল্লাহ, লাবু জোয়ার্দ্দার, মাহমুদ রিবন, অহিদুর রহমান ডেল্টা, জাকির হোসেন পলাশ, ইউসুফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ডাব্লু, শফিকুল ইসলাম,মনিরুল ইসলাম,মামুন, শামসুজ্জামান প্রমুখ। এসময় শহরের সকল মেস মালিক উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় মেস মালিকরা বলেছেন তাদের অনেকের মেস ভাড়া দিয়ে ছেলে মেয়ের লেখাপড়া, বিদ্যুৎ বিল,পানির বিল,সংসার খরচসহ অন্যান্য খরচ চালাতে হয়। সেই সাথে অনেক মেস মালিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি করেছেন। তারা যদি ভাড়া না নেন বিপদে পড়তে হবে। মেস মালিকদের অভিযোগ, এর আগের বৈঠকে প্রশাসনের কর্মকর্তারা মানবিক কারণে মেসভাড়া ৬০ শতাংশ মওকুফের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেটি আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না। আর বৈঠকের আলোচনার বিষয় নিয়ে চরম বিভ্রান্তি থেকে দ্বন্দ্বেরও সূচনা হয়েছে। মেসে থাকা শিক্ষার্থী ও তাদের বন্ধুরা দলবল বেঁধে ভাড়ার ৬০ শতাংশ মওকুফের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হাসান বলেন, কোনো শিক্ষার্থী মেস ভাড়া দিতে না পারায় তাদের জিনিসপত্র মেস মালিকরা আটকে রেখেছে আবার অনেক মালিক শিক্ষার্থীদের জিনিসপত্র বাইরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা। তবে এমনটি আর করা যাবে না। মেস মালিকদের করোনার কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে আগামী জুন পর্যন্ত কোনো গ্রহীতা ঋণ শোধ না করলেও খেলাপী ধরা হবে না। যদি জুনের মধ্যেই  ঋণ শোধ করা হয় তিনি নিয়মিত ঋণগ্িরহতা হিসেবে চিহ্নিত হবেন। ঋণ পরিশোধের জন্য কারোর উপর ব্যাংকের চাপ থাকলে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলেন তিনি। এরপর মেস মালিকদের সম্মতিক্রমে শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া ২৫ শতাংশ মওকুফ করা হয়েছে।