এসএসসিতে যশোরের নামিদামিসহ কয়েক স্কুলের সাফল্য

মিরাজুল কবীর টিটো : এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে যশোরের চারটি নামিদামি স্কুলের মধ্যে পুলিশ লাইন স্কুলের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাসের ধারা অব্যাহত রেখেছে। সেই সাথে এ বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার বেড়েছে। এদিকে জিলা স্কুল,সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুলে পাশের হার কমেছে,বেড়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তি। অথচ শহর ও শহরতলির স্কুল গুলোর শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল অর্জন করেছে। স্কুল গুলোতে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়

পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। পাসের হার শতভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৩ শিক্ষার্থী। এ স্কুলে গত বছর পাসের হার ছিল শতভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮২ শিক্ষার্থী।

জিলা স্কুল

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিলা স্কুলের ছাত্ররা শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। পরীক্ষায় ২৭৪ জন ছাত্র অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৭০ জন। পাশের হার ৯৯ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৬ জন ছাত্র। গত বছরও পাসের হার ছিল ৯৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৫০ জন ছাত্র। এ বছর ২৬ জন ছাত্র বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে। প্রধান শিক্ষক একেএম গোলাম আযম জানান চারজন ছাত্রের মধ্যে একজনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে। ৩ জন ফেল করেছে। যে দিন থেকে জিপিএ-৫ চালু হয়েছে সেদিন থেকে এ পর্যন্ত জিপিএ-৫ প্রাপ্তির রেকর্ড ছাড়িয়ে ছাত্ররা এবছর বেশি জিপিএ-৫ পাওয়ার রেকর্ড করেছে। সেই সাথে যশোর শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক দিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে।

সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ২৬৬ জন ছাত্রী অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ২৬০ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৭৪  শতাংশ। সেই সাথে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪৭ জন ছাত্র। গত বছর পাসের হার ছিল ৯৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১৭ জন ছাত্রী। গত বছরের তুলনায় ৩০ জন ছাত্রী বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লায়লা শিরিন সুলতানা জানান এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পর ছাত্রীরা স্কুলে অতিরিক্ত ক্লাস না করে বাইরে কোচিং করেছে। এ কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ

যশোর শিক্ষা বোর্ড সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ১৩৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৩৫ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭২ জন। এ স্কুলের  গত বছর পাসের হার ছিল শতভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩৭ জন শিক্ষার্থী।

এ বছর পাস করা ১৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে  বিজ্ঞান বিভাগে ৮৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬৪ জন ও এ গ্রেড পেয়েছে ২০ জন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৫২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫১। মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ০৮ জন, ৪ থেকে ৫ পেয়েছে ২৪ জন, ৩.৫ থেকে ৪ পেয়েছে ১৪ জন, ৩ থেকে  ৩.৫ পেয়েছে ০২ জন এবং ২ থেকে ৩ পেয়েছে ৩ জন। গভর্নিং বডির সভাপতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব মাহবুব হোসেন ,সিনিয়র সহ-সভাপতি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন, অধ্যক্ষ, শিক্ষকমন্ডলী, কৃতি শিক্ষার্থী ও সকল অভিভাবকবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে শতভাগ জিপিএ ৫ পাওয়ার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেন অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো: গোলাম মোস্তফা । এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সম্মিলনী ইন্সটিটিউশন

সম্মিলনী ইন্সটিটিউশন স্কুলের শিক্ষার্থীরা এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে। পরীক্ষায় ৬৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে- ১১ জন, এ গ্রেড ৩৭,এ মাইনাস- ৭ শিক্ষার্থী। গত বছর পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছির ৪ জন। প্রধান শিক্ষক মিহির কান্তি সরকার জানান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে এ ফলাফল অর্জন হয়েছে।

বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়

 

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২১ জন শিক্ষার্থী  শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। পাসের হার শতভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ শিক্ষার্থী। গত বছর পাসের াহর ছির ৯৭ দশমিক ২০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫জন। এ বছর ১২ শিক্ষার্থী বেশি জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে।

প্রধান শিক্ষক শরিফুল আনাম আজাদ জানান, শিক্ষক,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের  সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সাফল্য অর্জন হয়েছে।

আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়

আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৪১ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। পাসের হার শতভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ ছাত্রী। গত বছর পাসের হার ছিল ৯৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেল-১ জন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিন জানান এ ফলাফলে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির নেতৃবৃন্দ সন্তোষ্ট। আগামীতে ছাত্রীরা আরো ভাল ফলাফল অর্জন করতে পারে সেই চেষ্টাই করা হবে।

প্রিপারেটরী স্কুল

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রিপারেটরী স্কুল থেকে ৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৮৩ জন। পাসের হার ৯৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে-২৬ জন। গত বছর পাসের হার ছিল শতভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ শিক্ষার্থী। প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর খান জানান জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক দিয়ে এ বছর শিক্ষার্থীরা রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও যশোরের পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর নিয়মিত তদারকি এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতার কারণে এ ফলাফর অর্জিত হয়েছে।

নিউটাউন বালিকা বিদ্যালয়

নিউটাউন বালিকা বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৬৭ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৬৫ জন। পাসের হার ৯৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে-৩ ছাত্রী। প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া শিরিন জানান আগামীতে ছাত্রীরা যাকে আরো ভাল ফলাফল অর্জন করতে পারে। সেই চেষ্টা করা হবে।