যশোরে আরো দুইজন করোনা আক্রান্ত, চিকিৎসকসহ সুস্থ ৪

বিল্লাল হোসেন : যশোরে নতুন ২জনের শরীরে কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে যশোরের ১৮ নমুনা পরীক্ষায় ওই ২ জনের শরীরে করোনার অস্তিত্ব মেলে। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এ নিয়ে যশোর জেলায় মোট ১০৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলো। সিভিল সার্জন জানান, এদিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) ল্যাব থেকে পাঠানো  আরো ৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষার ফল হাতে পেয়েছেন। তাতে সবগুলো নেগেটিভ এসেছে। সোমবার যশোরে ১ জন চিকিৎসকসহ ৪ জন সুস্থ হয়েছেন। করোনা সন্দেহে আরো ৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য দুই ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন জানান, নতুন করে করোনায় আক্রান্ত ২ জন হলেন শার্শা উপজেলার বাসিন্দা। তারা ভারত ফেরত বলে গুঞ্জন ছড়ালেও সেটি সত্য নয়। তারা স্থানীয় ভাবেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

সিভিল সার্জন আরো জানান, সোমবার ৪ জন সুস্থ হয়েছেন তারা হলেন যশোর সদর উপজেলার রাফিয়া বেগম (৫০), ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. অন্তরা কুন্ডু (২৮) ও মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেকমো শিউলী আরা (৩০) ও রোগী আবুল কাশেম (৫৯)। তাদের প্রত্যেককে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সুস্থ হওয়ার ছাড়পত্র তুলে দেয়া হয়।  শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইউসুফ জানান, সোমবার শনাক্ত হওয়া ২ জনের বাড়ি শার্শা উপজেলার কাজীরবেড় এলাকায়। তারা যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত এক চিকিৎসকের ভাইপো। তারা ভারত ফেরত নয়। নিজ এলাকা থেকে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। তারা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যশোর সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বরত তথ্য কর্মকর্তা মেডিকেল অফিসার ডা. রেহেনেওয়াজ জানান, করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে সোমবার যশোরের আরো ৭৯  জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য দুটি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে ২৫ ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (খুমেক) ল্যাবে ৫৪ ।

উল্লেখ্য, যশোর জেলায় করোনা আক্রান্ত ১০৯ জনের মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৩৯ জন, শার্শা উপজেলায় ১২ জন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৭ জন, চৌগাছা উপজেলায় ১৫ জন, কেশবপুর উপজেলায় ১৩ জন, মণিরামপুর উপজেলায় ১১ জন, বাঘারপাড়া উপজেলায় ৩ জন ও অভয়নগর উপজেলায় ৯ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৭৭ জন।